
নিরঞ্জন মিত্র (নিরু) (ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ী থেকে পালিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে এক তরুণীকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সঞ্জয় কুমার দাস (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের ধুলদী রাজাপুর এলাকার একটি বাড়ী থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি (মহিলা) ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সঞ্জয় পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্ত সঞ্জয় কুমার দাস সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের ধুকদী রেলগেট-ধুলদী রাজাপুর এলাকার সত্য রঞ্জন দাসের ছেলে।
ভুক্তভোগী তরুণীর ভাষ্য, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর সঞ্জয় তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে বিয়ের কথা বলে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রায় ১০ মাস তাঁকে ঢাকার সাভার এলাকায় একটি বাসায় রাখা হয়। প্রথম কয়েক সপ্তাহ তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও পরে যৌতুকের দাবিতে তাঁকে মারধর শুরু করেন সঞ্জয়।
তরুণী জানান, নির্যাতনের বিষয়টি তিনি পরিবারের সদস্যদের জানালে মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় পরিবার থেকে প্রথমে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ না হলে সঞ্জয় আরও টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে পরিবার থেকে আরও পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও তাঁর ওপর নির্যাতন চলতে থাকে এবং সর্বশেষ ৬০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে সাভারের বাসায় ওই তরুণীকে কয়েক দিন আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। দীর্ঘ সময় মেয়ের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করতে না পারায় তাঁরা বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁর অবস্থান জানতে পেরে উদ্ধারের উদ্যোগ নিলে সঞ্জয় কৌশলে তরুণীকে সাভার থেকে ফরিদপুরের মাচ্চর ইউনিয়নের ধুলদী রাজাপুর এলাকায় তাঁর মামার বাড়ীতে নিয়ে আসেন। সেখানেও তাঁকে আটকে রেখে নির্যাতন এবং টাকা দাবির অভিযোগ ওঠে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে কোতয়ালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় ধুলদী রাজাপুরের ওই বাড়ি থেকে তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, তাঁর স্বামী সঞ্জয় নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। মাদক সেবনের পর প্রায়ই তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হতো। তাঁকে ঘরে আটকে রেখে লোহার রড ও বেল্ট দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানান ওই তরুণী।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, পরিবারের সম্মতি না থাকায় তাঁদের অমতে মেয়েকে নিয়ে বিয়ে করেন সঞ্জয়। পরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু হলে মেয়ের সুখের কথা ভেবে প্রথমে দুই লাখ এবং পরে আরও পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ ৬০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মেয়েকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্য ও ভুক্তভোগী তরুণী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত সঞ্জয় কুমার দাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।