বিশেষ প্রতিনিধি মেহদী হাসান:
আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে জনকল্যাণ ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছেন ৩৭ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সুমন ভূঁইয়া।
একটি অবহেলিত ও সমস্যাজর্জরিত এলাকাকে সুশাসিত, নিরাপদ এবং আধুনিক বাসযোগ্য ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি তিনি তার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
সুমন ভূঁইয়ার নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রধান স্তম্ভ হলো স্বচ্ছতা। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ওয়ার্ড অফিসকে পুরোপুরি দালাল ও ঘুষমুক্ত করা হবে। সকল উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব এবং ব্যয়ের বিবরণী জনগণের সামনে পেশ করা হবে, যা সুশাসনের এক নতুন নজির স্থাপন করবে।
৩৭ নং ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের অভিশাপ হলো তীব্র গ্যাস সংকট। সুমন ভূঁইয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তার প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত গ্যাস সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা, যাতে মা-বোনদের রান্নার কষ্ট চিরতরে লাঘব হয়। এছাড়া সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ফ্যামিলি কার্ডের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তার পরিকল্পনায় রয়েছে, এলাকা থেকে মাদক ও চাঁদাবাজ নির্মূল করা। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় পাড়ায় পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার।
যুবকদের বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আধুনিক পরিবেশ তৈরি করা। একটি আধুনিক শহরের পূর্বশর্ত হলো পরিচ্ছন্নতা। সুমন ভূঁইয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেনেজ সিস্টেম পরিষ্কারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করা। মশা নিধন কার্যক্রমকে গতিশীল করে জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। সড়কবাতি স্থাপন ও ভাঙা রাস্তা দ্রুত সংস্কার করে যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করা।
মানবসম্পদ উন্নয়নে তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং সরকারি ত্রাণ কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ওয়ার্ডকে ডিজিটালাইজড করার অঙ্গীকার করেছেন এই প্রার্থী। নাগরিক সেবা সহজ করতে অনলাইন অভিযোগ কেন্দ্র এবং তথ্য বাতায়ন খোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার, যেখানে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই কাউন্সিলরের কাছে তাদের সমস্যা জানাতে পারবেন।
সুমন ভূঁইয়া বলেন, “আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং একটি অবহেলিত জনপদকে তার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ৩৭ নং ওয়ার্ডের প্রতিটি মানুষের জন্য আমার দুয়ার সবসময় খোলা থাকবে। আপনাদের মূল্যবান ভোট ও সমর্থনই হবে আমার আগামীর পথ চলার শক্তি।”
৩৭ নং ওয়ার্ডের ভোটারদের প্রত্যাশা, যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্ব হিসেবে সুমন ভূঁইয়া তার এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও উন্নয়নের সুবাতাস বয়ে আনবেন। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমেই জনগণ তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।