
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রাচ্যের ভেনিসখ্যাত কীর্তনখোলা নদীতীরের নগরী বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির সাহসী নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন। শনিবার সরকার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে এ দায়িত্ব প্রদান করে।
বরিশাল সিটির প্রশাসক পদে স্থানীয় বিএনপির অন্তত ডজনখানেক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমোদনে পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বরিশাল বিভাগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং নতুন প্রশাসককে অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট দিতে দেখা গেছে দলীয় নেতাকর্মীদের।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী করতে দায়িত্ব পালনকালে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পাঁচটি ইউনিটের সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন করা, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং দিকনির্দেশনা দেওয়ার কারণে ঝালকাঠির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার একটি আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সৈয়দ হোসেন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেত্রী হিসেবে শিরিনকে দায়িত্ব দেওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন বলেন, “বরিশাল বিভাগে বিএনপির রাজনীতিতে অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন আপার ব্যাপক অবদান রয়েছে। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের শাসনামলে অসংখ্যবার হামলা-মামলা ও কারাবরণের শিকার হলেও তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে কখনও পিছপা হননি। বরিশালের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন প্রিয় নেতা।”
তিনি আরও বলেন, শিরিনের এই নিয়োগে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আনন্দিত। তারা তাকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও দমন-পীড়নের মধ্যেও দলের প্রতি অবিচল আস্থা ধরে রেখেছেন অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি কীভাবে কর্মী-সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানো যায়, সেই চেষ্টাই চালিয়ে গেছেন।
বরিশালের স্থানীয় রাজনীতিতে তার একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে। সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে গোটা বরিশাল বিভাগে তার জনপ্রিয়তাও উল্লেখযোগ্য।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক হিসেবে তার নিয়োগকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। এতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে।