
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যায় ভোগা কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাইটাল এলাকায় এবার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক পল্লী-সীমান্ত এলাকায় আরসিসি ড্রেইন নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এ উন্নয়ন কার্যক্রম। নতুন ড্রেইন নির্মাণ হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আজ সকাল ১০টার দিকে শিক্ষক পল্লী-সীমান্ত এলাকা থেকে ডাক্তার মাসুদ সাহেবের বাসা পর্যন্ত নির্ধারিত অংশে আরসিসি ড্রেইন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এমপি।
দীর্ঘদিন ধরে গাইটাল এলাকার বিভিন্ন স্থানে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে পানি দ্রুত সরে যেতে না পারায় সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পথচারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কিছু এলাকায় পানি জমে যায়। দীর্ঘদিনের এ সমস্যার কারণে বর্ষা এলেই স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হতো। নতুন আরসিসি ড্রেইন নির্মাণ শুরু হওয়ায় তাই এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পৌর প্রশাসক জেবুন্নাহার শাম্মী, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মো. শফিকুর রহমানসহ পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় বাসিন্দারাও উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনকালে সংশ্লিষ্টরা জানান, নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করা এবং পৌর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনেও পৌরসভা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গাইটালের শিক্ষক পল্লী-সীমান্ত এলাকায় আরসিসি ড্রেইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে ড্রেইন নির্মাণের উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজ শেষ হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হবে এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
তাদের মতে, শুধু ড্রেইন নির্মাণ করলেই হবে না—নির্মাণকাজে নির্ধারিত নকশা ও প্রকৌশলগত মান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি ড্রেইনের পানি যেন কার্যকরভাবে নির্ধারিত নিষ্কাশন ব্যবস্থায় পৌঁছাতে পারে, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ শেষ হলে গাইটাল এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও চলাচলের দুর্ভোগ কমিয়ে নাগরিক জীবন আরও স্বস্তিদায়ক হবে।
স্থানীয়দের ভাষায়, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পেরিয়ে এবার গাইটালে স্বস্তির পথে নতুন যাত্রা শুরু হলো।