মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা:
মহাকাশে মানুষের বসতি স্থাপন—একসময় যা ছিল কেবল কল্পবিজ্ঞানের গল্প, আজ তা বাস্তবতার পথে দ্রুত এগিয়ে চলছে। বিশ্ব যখন নতুন গ্রহে মানব বসতির স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছে, তখন সেই অভিযাত্রায় অংশ নিয়ে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ৭ মেধাবী শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। তাদের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২৫৬ টি দেশকে টপকে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বলে জানা গেছে।
পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে বিকল্প আবাসের সন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বিশ্বের শীর্ষ মহাকাশ সংস্থাগুলো—NASA, SpaceX এবং European Space Agency।
এ প্রেক্ষাপটে কোটচাঁদপুরের সাত শিক্ষার্থী মহাকাশে মানব বসতির সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও সমাধান নিয়ে একটি গবেষণামূলক আর্টিকেল প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রেরণ করে। তাদের গবেষণা প্রথম স্থান অর্জন করায় সংস্থাটির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। তারা সবাই একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও সাংবাদিক কামরুজ্জামান সিদ্দিকের সন্তানও এ কৃতিত্বের অংশীদার।
খুদে বিজ্ঞানীরা হলো খাজা আতিফ আবিদ, মোঃ তসলিমউদ্দিন ভুইঞা, আরেফিন সিদ্দিকী, ওমর ফারুক আল সাবিত, তাওফিক আহমেদ, তাছলিম আহমেদ, মোঃ মুন্তাছির রহমান বিশ্বাস।
গবেষণার মূল বিষয়বস্তু:
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে মহাকাশে স্থায়ী বসতির জন্য চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ধরা হচ্ছে। NASA–এর Artemis কর্মসূচির লক্ষ্য চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন। অন্যদিকে, Elon Musk–এর নেতৃত্বাধীন SpaceX ২০৫০ সালের মধ্যে মঙ্গলে মানব বসতি গড়ার পরিকল্পনা করছে।
ক্ষুদে গবেষকদের উপস্থাপনায় উঠে এসেছে—
মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড থেকে অক্সিজেন উৎপাদনে MOXIE প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা;
মহাজাগতিক রশ্মি থেকে সুরক্ষায় ভূগর্ভস্থ আবাসন ও রেগোলিথ দিয়ে নির্মিত কাঠামোর ধারণা;
দীর্ঘমেয়াদি ওজনহীনতার প্রভাব মোকাবিলায় কৃত্রিম মহাকর্ষ প্রযুক্তি;
স্পেস ফার্মিং বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষাবাদ ব্যবস্থা;
International Space Station–এ ব্যবহৃত পানি পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তির উদাহরণ;
দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থানের ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব।
অনুপ্রেরণার বার্তা
বিজ্ঞানাগারের প্রত্যক্ষ সহায়তা ছাড়াই এত অল্প বয়সে এমন গবেষণা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সমাজে যখন কিশোরদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের খবরই বেশি শোনা যায়, তখন এই সাত শিক্ষার্থী প্রমাণ করেছে—সঠিক দিকনির্দেশনা ও মনোযোগ পেলে তরুণ প্রজন্মই পারে দেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে।
গবেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে মঙ্গলে স্থায়ী মানব উপস্থিতি নিশ্চিত হলে মানবসভ্যতা এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে।
সহযোগিতা প্রত্যাশা:
তাদের গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে দেশবাসীর দোয়া ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা। প্রযুক্তিনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী শিক্ষা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝিনাইদহের এই সাত কৃতিসন্তান আজ শুধু জেলার নয়, সমগ্র দেশের গর্ব।