
খ ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চার নারী মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা হলেন বিএনপি থেকে সানজিদা ইসলাম তুলি ও নাদিয়া পাঠান পাপন এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে মারদিয়া মমতাজ ও শহীদ জননী রোকেয়া বেগম।
জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর গ্রামের হাজি মফিজুল ইসলামের মেয়ে সানজিদা ইসলাম তুলি দীর্ঘদিন ধরে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছেন। তিনি ‘মায়ের ডাক’ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক এবং ২০১৩ সালে গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন। এর আগে ঢাকা-১৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা তুলি মানবাধিকার আন্দোলনের একজন পরিচিত মুখ। অন্যদিকে বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের মরহুম আনোয়ার হোসেনের মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন ছাত্ররাজনীতি থেকেই সক্রিয়। তিনি ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পাওয়া ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ জেলা শহরের পাইকপাড়ার বাসিন্দা। তার পিতা ইঞ্জিনিয়ার মমতাজুল করীম দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মাতা বেগম সালেহা মমতাজও ছিলেন সক্রিয় কর্মী। নবীনগরের রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রাম তার পৈতৃক নিবাস।
তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি তিনি একজন গবেষক ও লেখক হিসেবেও পরিচিত।
এদিকে আখাউড়া উপজেলার তুলাইশিমুল গ্রামের রোকেয়া বেগমও জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তার সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই প্রেক্ষাপটে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই চার নারীর মনোনয়ন জেলার রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।