মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
অটোরিকশাচালকের দাবি ভাড়া ২০ টাকা। যাত্রী দিয়েছেন ১০ টাকা। বাকি টাকার জন্য চালক যাত্রীর ১২ বছর বয়সী নাতিকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে চলে যান। পরে তিনি জনতার হাতে ধরা পড়েন। তাঁরা তাঁকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী নগরের কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। মো. আকাশ (২৫) নামের ওই অটোরিকশাচালকের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌর এলাকায়। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর অটোরিকশাটি জব্দ করেছে কাশিয়াডাঙ্গা থানার পুলিশ।
মেহেদী হাসান নামের ওই শিশুর বাবার নাম মকবুল হোসেন। বাড়ি জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কদমশহর এলাকায়। সে পবা উপজেলার সোনাইকান্দি গ্রামে খালার বাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় পড়ে। তার খালা আফরোজা বেগম জানান, পেটব্যথার কারণে মেহেদী নানি কাজল রেখার সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিল। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় এই অটোরিকশাচালকের খপ্পরে পড়ে।
কাশিয়াডাঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূর হোসেন ঘটনার শুরু থেকে ছিলেন। তিনি বলেন, সাধারণত যাত্রীরা বাচ্চার ভাড়া দেন না। কিন্তু অটোচালক নানি ও নাতির মোট ভাড়া ২০ টাকা দাবি করেছিলেন। কিন্তু নানির কাছে মাত্র ২০ টাকাই ছিল। তিনি চালককে ১০ টাকা দিয়েছিলেন। বাকি ১০ টাকা দিয়ে বাকিপথ যাবেন। চালক তা মানেননি। তিনি ১০ টাকা ভাড়ার জন্য নাতিকে রিকশায় তুলে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে আরেক হাত দিয়ে রিকশা চালিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
এ ঘটনার পর নানি কাজল রেখা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আহাজারি করতে থাকেন। তিনি অটোচালককে খুঁজতে খুঁজতে নগরের হড়গ্রাম এলাকায় (কোর্টের পাশে) আসেন। সেখানে তিনি চালককে শনাক্ত করেন। স্থানীয় লোকজন তখন চালককে ধরে ধোলাই দেন। তখন অটোচালক দাবি করেন, কিছু দূরে নিয়ে গিয়ে বাচ্চাকে রিকশা থেকে নামিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর কথা কেউ মানতে পারেননি। তাঁরা তাঁকে নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থানায় সোপর্দ করেন। কিন্তু ঘটনার সূত্রপাত রাজপাড়া থানা এলাকা থেকে হওয়ায় মামলার জন্য অটোচালককে রাজপাড়া থানায় পাঠান। এদিকে শিশুটি একাই বাড়ি চলে যায়। পরে শিশুটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে পুলিশ তার কাছ থেকেও ঘটনার বর্ণনা শোনে বলে জানান এএসআই নূর হোসেন।
অটোচালক আকাশ ১০ টাকা ভাড়ার জন্য শিশুটিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কিছু দূর গিয়ে তিনি বাচ্চাটাকে ছেড়ে দিয়েছেন। ছবি তুলতে গেলে তিনি মুখ ঢাকেন। তিনি কলেজে পড়েন। ছবি ছাপলে তাঁর ক্ষতি হয়ে যাবে।
শিশুটির বাবা মকবুল হোসেন বলেন, তাঁরা নগরের রাজপাড়া থানায় এসে পৌঁছেছেন। তিনি মামলা করবেন। তিনি গরিব মানুষ। অনেক কষ্ট করে বাচ্চা মানুষ করছেন। অটোরিকশাচালক বাচ্চাটি অপহরণের চেষ্টা করেছেন। বেকায়দায় পড়ে বাচ্চাকে নামিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, বিষয়টি তিনি শুনছেন। মামলা করাও যায়। আবার মিলমিশ করেও দেওয়া যায়। তবে ছেলের বাবা রাজি না হলে মামলা করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে কাশিয়াডাঙ্গা থানাতেই মামলা করতে হবে। কারণ, ঘটনাস্থল ওই থানা এলাকায়। তাঁদের কাশিয়াডাঙ্গা থানায় পাঠানো হবে। ওসি বলেন, আপাতত অটোরিকশাচালককে রাজপাড়া থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।