মো: নুর আলম খন্দকার
গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রতিনিধি
পুজিবাদীদের মন্ত্র, যে কোন উপায়ে ক্যারিয়ার গড়তে হবে।তা না হলে জীবন বৃথা!
ছেলে এবং মেয়ে উভয়ে ক্যারিয়ার গড়ার প্রতিযোগীতায় অন্ধের মত অংশ নিচ্ছে নিজের সবটুকু বিলিয়ে।
ভার্সিটি পড়ুয়া মেধাবী মেয়েদের একটা অংশ ভিত্তিহীন ক্যারিয়ার গড়ার নামে পুজিবাদীদের কৃত্রিম প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে পরছে কখনো বা বিত্তশালীরা তাদের অর্থনৈতিক দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে যৌনচাহিদা মিটাচ্ছে
আরেকটা বড় অংশ প্রেমিকের সাথে রুমডেট মেস আবাসিক হোটেল ডার্ক রেস্টুরেন্ট হাইড আউট পার্কে যাচ্ছে। ঢাকা চট্টগ্রাম সহ প্রতিটি শহরে এরা সংক্রামক ব্যাধির মত ছড়িয়ে পড়েছে।সেই সাথে বাড়ছে সমকামিতার মত ঘৃনিত অবাধ মেলামেশা।
আমার এক বন্ধু পড়ালেখার পাশাপাশি আবাসিক এক হোটেলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছে। ওর ডিউটি রাতে। বিশাল বড় হোটেলের কোনো রাতেই খুব একটা রুম ফাঁকা থাকেনা। ও বলছে, বন্ধু বেশিরভাগই ভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রী।
প্রতি রাত ১৫০০-৫০০০/- পর্যন্ত খরচ করে থাকছে এক রাতের স্বামী-স্ত্রীর মত। বলছে বেশির ভাগই তো মুখে হিজাব পড়ে আসে, তারপরও যখন আমি ক্যামপাসে যাই তখন অনেকে আমাকে দেখে মুখ ঢেকে চলে যায়। একটা হোটেলের তথ্য, অথচ অসংখ্য হোটেল শহরে।
আরেকটা অংশ ভার্সিটির খরচসহ বিলাসবহুল বেপরোয়া জীবনযাপন করতে দেহ ব্যবসাকে পার্ট টাইম টাকা উপার্জনের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে। কখনো কুচক্র কমিশনভোগী দালালের মাধ্যমে কখনো বা লোকসমাগম রাস্তায় ভিজুটিং কার্ড ছিটিয়ে,এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দেহ ব্যবসা চালিয়ে চাচ্ছে।
প্রিয় অভিভাবকগন এই হচ্ছে আমার বোন অর্থাৎ, আপনাদের মেয়েদের অবস্থা! পুরো রমরমা ক্যারিয়ার বানাতে যে পাঠিয়েছেন তার যথাযথ অর্জন করেই আপনার ঘরে ফিরছে তারা।
অনার্সের বয়সটা এমন যে, কনজারভেটিভ পরিবার থেকে উঠে আসা মেয়েটা ছেলেদের সাথে দীর্ঘ সময় উঠাবসা করে। আর এই বয়সের ছেলেদের তেমন ভয় থাকেনা। তাই এরা নিঃসংকোচে গোপন কথাবার্তা মেয়ে বন্ধুকে ট্রিট করে বলে। এসব শুনতে শুনতে এক সময় মেয়েদের লজ্জা কমে যায়। আর জৈবিক চাহিদা যেহেতু নারী-পুরুষের সব চেয়ে তীব্র ও বড় মাপের চাহিদা তাই ভয়হীন ছেলে আর লজ্জাহীন নারীর জন্য এটা সহজ হয়ে যায়। তাই অবাধে চলছে আপনার মেয়ের যৌন প্রেম অথবা রমরমা যৌন ব্যবসা।
এখানে বড় পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এই মেয়েগুলো তো সারাজীবন আর এভাবে চলতে পারে না। ভার্সিটি শেষে একটা পর্যায়ে এদেরই কেউ না কেউ আপনার আমার ঘরে স্ত্রী হিসেবে আসছে। এবং লজ্জাহীন এই নারী তখন স্বামীকে মমতা প্রেম তীব্র আবেগানুভূতি দিতে পারে না। পারে না সন্তানকে নৈতিকতার শিক্ষা দিতে। এভাবেই প্রজন্মের মায়েরা ধ্বংস হচ্ছে।
এখন অভিভাবক হিসেবে কি আপনি চান ভার্সিটি ক্যারিয়ারের নামে আপনার কলিজার টুকরো মেয়েটা এভাবে নিজের ইজ্জত বিলিয়ে দিক?
দেহ ব্যবসা পেশায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেরাও পিছিয়ে নেই। বিত্তশালী বিবাহিত অবিবাহিত মেয়েদের যৌন ক্ষুধা মিটানোর জন্য তাদের ভাড়া করছে।বেশ কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটা ভিডিও সমস্ত দেশকে নাড়া দিয়েছিল দুজন ধনীর দুলালি একটি ছেলেকে চাবুক দিয়ে পিটিয়ে মনের ক্ষুধা মিটাচ্ছে।
ঘৃনিত এই কাজের বিকল্প অপশন কি?
বিকল্প অনেক আছে, কিন্তু আপনার পুঁজিবাদী মস্তিষ্ক বিকল্প দেখতে পায়না, দেখিয়ে দিলেও মানতে পারেনা। কারণ আপনার চাহিদা বস্ত্রহীন, লজ্জাহীন, ইজ্জতহীন রং মাখানো বর্নিল ক্যারিয়ার।