
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ নম্বর কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নে ঈদ উপলক্ষে সরকারি ভিজিএফ চালের কার্ড চাইতে গিয়ে এক হতদরিদ্র কৃষককে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী আবু বক্কর অতি দরিদ্র কৃষক। ভাঙাচোরা একটি কুঁড়েঘরে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন তিনি। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, ঈদ উপলক্ষে অসহায়দের মাঝে ১০ কেজি করে সরকারি ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। সেই আশায় তিনি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মিয়ার কাছে একটি কার্ডের জন্য আবেদন করতে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে চালের কার্ড চাইতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ইউপি সদস্য। কার্ড না দিয়ে বরং প্রকাশ্যে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে আবু বক্করের ঠোঁট ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীকে চুপ থাকতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকরা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক ইউপি সদস্য ভিডিও ফুটেজ মুছে না দিলে সাংবাদিকদের পরিষদ থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলে সরাসরি হুমকি দেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (ডিডিএলজি) জেবুন নাহার শাম্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ইউনিয়ন পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। ঈদের ভিজিএফ চাল কম দেওয়া, জন্মনিবন্ধনে সরকার নির্ধারিত ৫০ টাকার বদলে ১৫০ টাকা আদায়সহ নাগরিক সেবা কার্যত উপেক্ষিত। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে পুরো ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম রবি, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান, কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিসান খান অভি এবং কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোবারক হোসেন। তাদের বক্তব্য, নির্যাতন, ভয়ভীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে এক ধরনের অরাজক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।