
ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার উপজেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অফিসে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও বিল উত্তোলন করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। দাপ্তরিক ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য পিয়নের মাধ্যমে বাড়তি অর্থ নেওয়া হচ্ছে, এমনকি বিল পাসের ক্ষেত্রেও ‘পারসেন্টেজ’ দাবি করা হচ্ছে—যা সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, মনপুরা উপজেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ে একজন একাউন্ট অফিসার ও
তিন চারজন অডিট অফিসার থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে একাউন্ট অফিসারের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। গত বছরের আগস্ট মাসে লালমোহন উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্বে মনপুরায় নিয়োগ পান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বজলুর রহমান। তবে অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত আট মাসে একদিনও তাকে অফিসে দেখা যায়নি।
এদিকে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
পেনশন ভাতা পেতে আসা স্বাস্থ্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী অনিল বাবু বলেন, অবসরে গিয়েও শান্তি পেলাম না। পেনশনের ফাইল নিয়ে বহুবার অফিসে এসে কর্মকর্তাকে পাইনি। বাধ্য হয়ে পিয়নকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কাগজপত্র লালমোহনে পাঠাতে হচ্ছে তার স্বাক্ষরের জন্য।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিভাগের আমির হোসেন, সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেমসহ আরও কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। তাদের দাবি, কর্মকর্তা মনপুরায় উপস্থিত না থাকায় লালমোহনে গিয়ে স্বাক্ষর নিতে হয়। তাতেও নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্ব সাধারণত ছয় মাসের বেশি থাকার বিধান না থাকলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। সরকার বাড়তি দায়িত্বের জন্য বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা দিলেও যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে তাকে বহাল রেখে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন এই অভিযোগ ভিত্তিহীন, আমি আমার দায়িত্ব যথাযথ পালণ করে আসছি, আমার বিরুদ্ধে যদি কেউ অভিযোগ করে সেটা আমার কর্তিপক্ষকে অবহিত করেন।
এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুল ইসলাম (এ ডি সি এ ) বলেন, উপজেলায় কর্মরত বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।