
মোঃ মনিরুজ্জামান মহেশপুর, ঝিনাইদাহ
জীবিকার একমাত্র সম্বল ভ্যানটি চুরি হয়ে যাওয়ায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার পশু হাসপাতাল পাড়ার মৃত ফরজ আলীর ছেলে ও তিন সন্তানের জনক দিনমজুর ফিরোজ হোসেন। অবশেষে প্রশাসনের সহায়তায় নতুন একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান হাতে পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন এই অসহায় পরিবারটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে দিনমজুর ফিরোজের জীবিকার একমাত্র মাধ্যম ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান হারানোর পর তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছিল তাঁর। বাধ্য হয়ে দৈনিক ভাড়ায় অন্যের ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাঁকে। একইসঙ্গে তিন সন্তানের পড়ালেখার খরচ জোগানোও তাঁর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।অসহায় এই দিনমজুরের দুর্দিনের খবরটি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের নজরে আসে। খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে দিনমজুর ফিরোজের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন এই মানবিক কর্মকর্তা। তাঁর সার্বিক সহযোগিতায় শুক্রবার সকালে ফিরোজকে একটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান উপহার দেওয়া হয়।
নতুন ভ্যানটি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দিনমজুর ফিরোজ। তিনি বলেন,আমার ভ্যানটা চুরি যাওয়ার পর আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব এবং তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ কীভাবে জোগাবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। স্যার আমাকে নতুন ভ্যান কিনে দিয়ে বেঁচে থাকার রাস্তা আবার তৈরি করে দিয়েছেন। আমি আল্লাহর কাছে স্যারের দীর্ঘায়ু কামনা করি।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন,দিনমজুর ফিরোজ ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান হারিয়ে আমার কাছে এসে কান্নাকাটি করেন। তাঁর এই অসহায়ত্বের বিষয়টি নজরে আসার পর তাঁর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেছি। প্রশাসন সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে। এই নতুন ভ্যানটির মাধ্যমে তিনি যেন সততার সাথে আয় করে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারেন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।