
মোঃ মনিরুজ্জামান সিনিয়র রিপোর্টার ঝিনাইদাহ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিকাল ৪:টায় কলেজ বাসস্ট্যান্ডে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০০৬ সালের ২৮ শে অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসে রক্তাক্ত এক কালো দিন রচিত হয়েছিল আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে। ১৩ জনকে হত্যা করা হয় ও হাজার হাজার সাধারণ মানুষ পঙ্গুত্ব আহত হয়ে দিন যাপন করছে। সেই ঘটনার বিচার আজও হয়নি। তাই ঐতিহাসিক এ নৃশংস ঘটনার বিচারের দাবিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর)মহেশপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি ও আগামী পৌর মেয়র নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ইসমাইল হোসেন পলাশ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আমিরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ও মহেশপুর থানা যুব বিভাগের সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশপুর উপজেলা শাখার কর্ম পরিষদের সদস্য সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড দায়িত্বশীলবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি মহেশপুর উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ বাসস্ট্যান্ডে এসে বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। রাজধানীর পল্টন ও বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে প্রাণহানি ও বহু মানুষ আহত হন।
সমসাময়িক সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন পল্টন এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থক, জামায়াতের নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। প্রতিবেদনে জামায়াতের এক কর্মীকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মির পিটুনিতে নিহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, দ্য ডেইলি স্টার-এর ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত ও প্রায় ২ হাজার আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে ওই দিনের ঘটনাকে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা সহিংসতার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ২৮ অক্টোবরের নিহতদের স্মৃতি শুধু শোকের নয়—এটি রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোরও শিক্ষা।
যাঁরা সেদিন প্রাণ হারিয়েছেন এবং যাঁরা আহত হয়ে দীর্ঘদিন কষ্ট ভোগ করেছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা। সত্য উদ্ঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হোক এই দিনের অঙ্গীকার।
২৮ অক্টোবরের ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক মানবিকতা ও ন্যায়বিচার।