
আবু কাওসার মাখন
রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী মহানগরীতে মোটর শ্রমিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শ্রমিকরা। এ সময় অভিযুক্ত শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখির পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শ্রমিক ইউনিয়নের দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিও তোলা হয়।
সোমবার সকালে ভদ্রা মোড়ের স্মৃতি অম্লান চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও হেলপাররা অংশ নেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত ১৭ বছর সুবিধা নিয়ে এখন সে রাজশাহীর কিছু বিএনপির সুবিধাবাদী নেতাদের ম্যানেজ করে। শ্রমিকদের টাকা মেরে সেই টাকা দিয়েই শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখির নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর গুলি ও বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই তার পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান মানববন্দনে।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম পাখি রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সহ-সভাপতি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আত্মগোপনে গেলে তিনি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়কের দায়িত্বেও রয়েছেন।
শ্রমিক নেতারা বলেন, বর্তমানে ইউনিয়নে কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। একটি ‘পকেট কমিটি’ দিয়ে সংগঠন চালানো হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে হামলার মূল হোতা হিসেবে রফিকুল ইসলাম পাখিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন মো. শামীম, মো. স্বপন, মো. নাজমুল ও মো. লিটনসহ স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপাররা এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি শেষে শ্রমিকরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।