মোঃহাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের সম্মানিত ডিআইজি জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান-এর নির্দেশনা এবং পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোমান আহমদ পিপিএম এর সরাসরি নেতৃত্বে গত ০৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. রাত আনুমানিক ০২:০০ ঘটিকায় পটিয়া মডেল থানার একটি চৌকস দল পটিয়া পৌরসভার ০৬ নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়াস্থ নিজ বাসা থেকে রিয়াদ বিন সেলিম (৪০), পিতা- মৃত মোঃ সেলিম উদ্দিন-কে গ্রেফতার করে।
*গ্রেফতারকালে জব্দকৃত আলামত:*
১) আসামির ছবি সম্বলিত ০১টি আইডি কার্ড, যাতে ইংরেজিতে “CSF Chairperson’s Security Force, ID No-013, Riyed Salim” লেখা রয়েছে।
২) ০১টি হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর (TIANXUN METAL DETECTORS)।
৩) চার্জারসহ ০১টি ওয়াকিটকি হ্যান্ডসেট (BAOFENG, মডেল-BF-888S)।
৪) ০১টি কালো হাতলবিশিষ্ট সিগন্যাল লাইট।
৫) আসামির ছবি সম্বলিত ০১টি ‘মনিটরিং সেল’ কার্ড।
৬) ০১টি ওয়াকিটকি সদৃশ মোবাইল ফোন (MICRONEX, মডেল-MX-31)।
৭) ০১টি ITEL বাটন মোবাইল সেট।
*প্রতারণার কৌশল:*
গ্রেফতারকৃত আসামি তার ফেসবুক আইডি “Lion Riyadh Selim”-এ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি ও মাননীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি পোস্ট করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করত। প্রাথমিকভাবে এসব ছবি এআই (AI) জেনারেটেড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে তদবির বাণিজ্য করার অভিযোগও রয়েছে।
*সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা:*
বাদী মোঃ কামরুল হাসান (পিতা- মৃত নুরুল ইসলাম, সাং- উত্তর সাইচাপাড়া, বজলু মাস্টার বাড়ি, থানা- দেবিদ্বার, জেলা- কুমিল্লা; বর্তমানে আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম) জেলহাজতে থাকাকালীন আসামি রিয়াদ বিন সেলিম তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সম্পর্কের কথা বলে দ্রুত জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে প্রথমে বিকাশে ১৫,৩০০/- (পনেরো হাজার তিনশত) টাকা এবং পরে নগদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা হাতিয়ে নেয়।
উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পটিয়া থানার মামলা নং- ০৬, তারিখ- ০৫/০৪/২০২৬ খ্রি., ধারা- ৪১৭/৪১৯/৪২০/৪০৬/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ রুজু করা হয়েছে।
*পূর্বের অপরাধ রেকর্ড (PCPR):*
আসামির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। থানার রেকর্ড অনুযায়ী—
(ক) সিএমপি আকবরশাহ থানার এফআইআর নং- ০৩, তারিখ- ০১/০১/২০১৮, ধারা- ৭/৯(১) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩);
(খ) সিএমপি চান্দগাঁও থানার এফআইআর নং- ১৭, তারিখ- ১০/০৩/২০২৩, ধারা- ৩৬(১) সারণির ১০(খ) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮; তৎসহ ১৭০/১৭১/৪২০ পেনাল কোড, ১৮৬০— এর গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট মূলতবি রয়েছে।
*ডিজিটাল ফরেনসিক তথ্য:*
আসামির ব্যবহৃত মোবাইল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ‘ট্যাক্স ইন্সপেক্টর’, ‘কন্ট্রোল ও সার্ভার ইনচার্জ’ ইত্যাদি পদে চাকরি দেওয়ার নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য দিয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণও মিলেছে।
সার্বিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, আসামি প্রতারণাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছিল।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং ভুক্তভোগীদের আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।