
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। কোথাও উঠে গেছে পিচ, কোথাও বেরিয়ে পড়েছে ইট-পাথর। আবার কোথাও বড় বড় গর্তে জমে থাকা পানির কারণে বোঝার উপায় নেই, গর্তটি কতটা গভীর।
সম্প্রতি এমনই চিত্র দেখা গেছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মনিপুর ঘাট ব্রিজ রোডে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। ছবিতে দেখা যায়, সড়কের একটি বড় অংশ পানিতে তলিয়ে আছে। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা ইট ও পাথর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালমুখী রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কের এমন দুরবস্থায় অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বৃষ্টি হলেই রাস্তা আর রাস্তা থাকে না। বড় বড় গর্ত পানিতে ডুবে যায়। কোনটা রাস্তা আর কোনটা গর্ত বোঝা যায় না। দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করতে হয়।”
শুধু মনিপুর ঘাট ব্রিজ রোড নয়, কিশোরগঞ্জ-যশোদল সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্কুল রোডের অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে নাজুক বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পৌরকর দিয়েও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত কেন?
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, নিয়মিত পৌরকর দেওয়ার পরও কেন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বছরের পর বছর সংস্কারের বাইরে থাকবে? নাগরিকদের কাছ থেকে কর আদায় করা হলে নিরাপদ সড়ক, চলাচলযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অংশ।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এ পৌরসভার কার্যাবলির মধ্যে নাগরিক সুবিধা প্রদান এবং রাস্তা-ঘাটসহ পৌর অবকাঠামোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয় রয়েছে। ফলে জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
দুর্ঘটনার পর নয়, আগেই ব্যবস্থা চায় এলাকাবাসী
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার পর দায়সারা মেরামত নয়, এখনই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে মনিপুর ঘাট ব্রিজ রোডের গর্তগুলো দ্রুত ভরাট, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, “আর কতদিন মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হবে? একজন রোগী কিংবা শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর কি কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে?”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, একটি শহরের উন্নয়ন শুধু ভবন বা স্থাপনা দিয়ে বিচার করা যায় না। নাগরিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান শর্ত।
তাই কিশোরগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি, মনিপুর ঘাট ব্রিজ রোড এবং যশোদল সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্কুল রোড দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে সময়সীমা নির্ধারণ করে সংস্কারকাজ শুরু করা হোক।
জনগণের প্রত্যাশা একটাই—দায়সারা আশ্বাস নয়, এবার বাস্তব পদক্ষেপ চাই। রাস্তা যেন আর মরণফাঁদ না থাকে, সেটিই এখন কিশোরগঞ্জবাসীর দাবি।