
মোঃ মনিরুজ্জামান মহেশপুর ঝিনাইদাহ।
দুই হাতের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়েও থেমে যায়নি স্বপ্নের পথচলা। এসএসসি পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমে লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী খুশবু আক্তার। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা স্বপ্নপূরণের বাধা হতে পারে না। ভবিষ্যতে ইংরেজি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
খুশবু আক্তারের পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়।মহেশপুর পৌর সভা বগা গ্রামে বাড়ি। স্বল্প আয়ের পরিবারের সন্তান হয়েও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। দুই হাতের গুরুতর ক্ষতির কারণে স্বাভাবিকভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া তার জন্য অনেক কঠিন। তারপরও পরিবারের সহযোগিতা ও নিজের অদম্য মনোবলকে পুঁজি করে পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছেন। তার এই সাফল্য শুধু নিজের পরিবারের জন্য নয়, পুরো কলেজের জন্যও গর্বের। কলেজের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় মহেশপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে মোট ১১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৭৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ। কলেজটি থেকে এবার পাঁচজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ১জন বিজ্ঞান বিভাগ ৪জন মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—হুমায়রা মেহজাবিন সামি, খুশবু আক্তার, সাইমাতুস সাদিয়া, উম্মে নায়িমা ও ফারাহ সুফিয়া সেমন্তী।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, মানবিক বিভাগে ৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জন, বিএমটি শাখায় ৩৬ জনের মধ্যে ৩০ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে তিনজনের মধ্যে দুজন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিএমটি শাখায় পাসের হার সবচেয়ে বেশি হলেও ৪টি জিপিএ-৫ এসেছে মানবিক বিভাগ থেকে।
কলেজের অধ্যাপক মমিনুল হক বলেন, তাদের কলেজে মূলত নিম্ন ও স্বল্প আয়ের পরিবারের মেয়েরা পড়াশোনা করে। যেসব শিক্ষার্থী এসএসসিতে ভালো ফলাফল করে, তাদের অনেকেই অন্য কলেজে ভর্তি হয়। ফলে সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করা এবং পাঁচজনের জিপিএ-৫ অর্জন করা নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। বিশেষ করে জিপিএ-৫ পাওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই মেধাবী। তবে তাদের অধিকাংশের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল নয়। তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং কলেজটির উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
প্রতিকূলতাকে জয় করে খুশবু আক্তারের এমন সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তার স্বপ্ন—একদিন উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবেন।