
হুমায়ুন কবির | বিশেষ প্রতিনিধি। ১২ মে ২০২৬, ফেনী।
ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিলছে চারিত্রিক সদন বা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে আঙুল উঠেছে থানার কনস্টেবল মোঃ রিমনের দিকে। তার এই ‘ঘুষ বাণিজ্যের’ কারণে একদিকে যেমন অপরাধীরা ছাড় পেয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ প্রবাসী ও বিদেশগামীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
অনুসন্ধানে জানা যায়, কনস্টেবল রিমন দীর্ঘ মাস যাবত সোনাগাজী মডেল থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সকল কাগজপত্র জমা নেওয়ার কাজ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। সম্প্রতি শাহাদাত হোসেন টিপু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও ১২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রিপনের বিরুদ্ধে। নিয়ম অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন মামলার আসামি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার যোগ্য নন, কিন্তু টাকার বিনিময়ে সেই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে।
ধাপে ধাপে আদায় করা হচ্ছে টাকা:
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যমতে, একটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য সরকারি খরচ মাত্র ৫০০ টাকা (চালান) হলেও সোনাগাজীতে খরচ করতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। সাধারণ প্রক্রিয়ায় একজন গ্রাহককে ব্যাংক ড্রাফট বাবদ ১৫২০/- টাকা এবং আবেদন ফি বাবদ ২০০ টাকা দিতে হয়। এরপর থানার ভেতরে কনস্টেবল রিমনকে দিতে হয় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। পরবর্তীতে ফেনী থেকে ক্লিয়ারেন্স এনে দেওয়ার কথা বলে আরও ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। অর্থাৎ একটি সাধারণ ক্লিয়ারেন্সের জন্য ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকা গুনতে হচ্ছে প্রবাসীদের।
জরুরি ক্লিয়ারেন্স ও মামলার আসামিদের রেট:
যাদের ২-৩ দিনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন, তাদের জন্য রিপনের নির্ধারিত রেট ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আর যাদের নামে মামলা বা আইনি জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই অংক ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, যারা দাবিকৃত ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের আবেদনে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে বাতিল করে দেওয়া হয় অথবা মাসের পর মাস ঘুরিয়ে হয়রানি করা হয়।
প্রবাসীদের হাহাকার ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ:
সোনাগাজীর প্রবাসী ও বিদেশগামীরা এই ‘জুলুমবাজি’ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিশেষ করে ফেনীর পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট জোর দাবি জানানো হয়েছে, যেন এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সৎ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করা হয় এবং অভিযুক্ত কনস্টেবল রিমনের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।