মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার শাহানা ফিলিং স্টেশনের সামনে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি কার্গো ভ্যান ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত এইচএসসি পরীক্ষার্থী পূর্ণতা সরকার (১৭) ছয়দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর রোববার (১ মার্চ) রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দুর্ঘটনায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত চারজন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
পূর্ণতা সরকার বনগ্রাম সদর ইউনিয়নের হবিবুল্লাহপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত এনজিও কর্মী মলয় সরকার ও স্কুলশিক্ষিকা বিনা রানীর কন্যা। গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী পূর্ণতার স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা অর্জন করে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হওয়ার। কিন্তু সড়কের নির্মমতায় সেই স্বপ্ন অসমাপ্ত রয়ে গেল।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। আদরের মেয়ের নিথর দেহ দেখে বাবা-মা বারবার মূর্ছা যান। বিকেলে পারিবারিক শ্মশানে দাহ সম্পন্ন হয়। মা বিনা রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দুই মেয়ে নিয়েই আমাদের সংসার। ছোট মেয়েটিই ছিল আমাদের সব স্বপ্ন। কলেজে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ভালো মানুষ হতে চেয়েছিল। আজ সেই স্বপ্ন শেষ। আমাদের মেয়েকে কোথায় পাব?’
পরিবারের বরাত অনুযায়ী, মাথায় গুরুতর আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পূর্ণতাকে প্রথমে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। ছয়দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর চিকিৎসক ও পরিবারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণতা প্রাইভেট পড়ার পর ইজিবাইকে বাড়ি ফেরার পথে শাহানা ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক চালক আল আমিন ও যাত্রী দীপ গৌতম নিহত হন। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যানটি এর।
পরিবার ও স্থানীয়রা দুর্ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিপূরণ এবং সরকারিভাবে সহায়তা দাবি করেছেন।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, ভ্যান ও ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে। চালক ও হেলপার পালিয়ে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সিএনজি চালকের ভুলের কথা উল্লেখ করেছেন। শোকের আড়ালে তিনটি পরিবার নিঃস্ব, আর এক সম্ভাবনাময় জীবন থেমে গেল সড়কে—নিরাপদ সড়ক কবে নিশ্চিত হবে, সেই প্রত্যাশা সবার।