
মোঃ রবিউল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার (ঝিনাইদহ):
পরিবেশ দূষণ রোধ এবং বিকল্প জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ব্যবহৃত পুরনো মবিল (লুব্রিকেন্ট অয়েল যেমন পোড়া মবিল) ব্যবহার করে পরিবেশ বান্ধব বা সাশ্রয়ী চুলা তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন আঃ সাত্তার নামের এক উদ্ভাবক। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবসরপ্রাপ্ত ওয়ার্ড বয় চাকুরী জীবন শেষ করার পর বসে থাকেনি তৈরী করেছেন জ্বালানি সাশ্রয় স্বাস্থ্য সম্মত চুলা। ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে শুরু করে আজ তিনি নেট দুনিয়ায় ব্যপক শাড়া ফেলেছেন। পরিবেশ রক্ষায় এই নতুন উদ্যোগটি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। "ব্যবসা হোক নিরাপদ শিকড়" এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখেই ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার টাওয়ার পাড়াতে লুব্রিকেন্ট অয়েল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিকল্প জ্বালানি চুলা। ডিজেল,কেরসিন কিংবা গ্যাসের চুলা দিয়ে রান্না নয়, এবার তৈরি হয়েছে পরিত্যক্ত পুড়া মবিল দিয়ে জ্বালানী চুলা। যাহা এক লিটার পরিত্যক্ত মবিল দিয়ে টানা প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা রান্না করা সম্ভব। সম্পুর্ণ নিজেস্ব অর্থায়নে কোলাহল মুক্ত উন্মুক্ত পরিবেশে নিজের বাসগৃহে তৈরী করেছেন এই চুলা।
এদিকে উদ্ভাবক আঃ সাত্তার সাংবাদিকদের জানান, এই চুলাটি বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি, যা রান্নার কাজে ব্যবহৃত সাধারণ চুলার চেয়ে আলাদা এবং ঝুঁকিমুক্ত। চুলাটিতে ব্যবহৃত পুরনো মবিল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ধোঁয়া বা কালো কালি তৈরি করে না।
উদ্ভাবকের দাবি, এটি পরিবেশবান্ধব এবং নিরাপদ। রান্নার কাজে ব্যবহৃত সাধারণ গ্যাসের চুলার তুলনায় এতে বিস্ফোরণের ঝুঁকি নেই। বিদ্যুৎ বা ব্যাটারির সাহায্যে ছোট একটি ফ্যান চালনার মাধ্যমে চুলার শিখা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এই উদ্যোগটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা আরো বলেন, "এটি পরিবেশের ক্ষতি না করে বরং অপচয় হওয়া মবিলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার একটি উপায়। এটি পরিবেশ রক্ষা এবং সাশ্রয়ী রান্নার একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে।" ধুলিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুস সালাম জানান,আমি এটি শুনার পর সরজমিনে গিয়ে দেখে অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে, পরিত্যক্ত পুড়া মবিল দিয়ে জ্বালানী চুলা ব্যবহার করা হচ্ছে। তার এই উদ্যোগকে আমি স্বাধুবাদ জানায়।
এদিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ্ত রায় দীপন গণমাধ্যমকে জানান, আমি এই ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। এটা একটা খুব ভালো দিক। খুব শীগ্রই আমি সরজমিনে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করবো। শুধু তাই নয় তাকে যেকোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা বা সহায়তা করে অবশ্যই উৎসাহিত করা হবে বলেও জানান ঐ শীর্ষ কর্মকর্তা।