মোঃ রবিউল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন হলুদের সমারোহে ছেয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ মাঠে সরিষার নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে শুধু কৃষকের চোখ নয়, মনও জুড়িয়ে যাচ্ছে। ভোজ্যতেলের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে এ বছর উপজেলাটিতে সরিষা চাষে গত কয়েক বছরের তুলনায় ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে যেমন— রঘুনাথপুর, ফলসী, চাঁদপুর ও জোড়াদহ এলাকায় এ বছর সবচেয়ে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পরিমিত কুয়াশার কারণে সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। মূলত বারি-১৪, বারি-১৮ ও স্থানীয় টরি-৭ জাতের সরিষা বেশি চাষ করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমন ধান কাটার পর এবং বোরো ধান লাগানোর মাঝখানের সময়ে জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষ করা হয়। একে ‘সাথী ফসল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষকরা জানান:
কম খরচ: সরিষা চাষে সার ও সেচ খুব সামান্য লাগে।
মাত্র ৭৫- ৮০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়।
নিজেদের পরিবারের তেলের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি সরিষা বাজারে বিক্রি করে লাভবান হওয়া যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক গুরুত্বে ভোজ্যতেলের ওপর বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে হরিণাকুণ্ডুর এই ‘হলুদ বিপ্লব’ বড় ভূমিকা রাখছে। সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন, তেমনি সরিষার খৈল পশুখাদ্য ও সার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সরিষার গাছ জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগছে।