
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মনিয়া পুকুর পাড় এলাকার পশ্চিম পাশে, ছোট কাঞ্চনপুর ডেসটিনি বাগানের পূর্বদিকে প্রকাশ্যে চলছে ভয়াবহ পাহাড় কাটার কার্যক্রম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, শত শত পাহাড় কেটে জীপ গাড়িতে করে মাটি নিয়ে যাচ্ছে,যা স্থানীয় পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী চক্র (আইন অমান্য কারি) অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছে। ঘটনাস্থলে কাজ করা শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, তারা “শফিউল আজমের আন্ডারে” কাজ করছেন।
এ বিষয়ে শফিউল আজমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি অন্য একজনের অধীনে চাকরি করি।” পরে তিনি দাবি করেন, মানিক চৌধুরী, আফজাল চৌধুরী এবং তার ছেলে রুবেলসহ আরও কয়েকজন এই কাজের সাথে জড়িত।
এ বিষয়ে হাটহাজারীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইনু মহোদয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ!!
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন,
“প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। এতে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে, ধুলাবালিতে বসবাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগমের ভাষায়,
“বৃষ্টি হলে আমরা খুব ভয় পাই। পাহাড়ের মাটি কেটে ফেলাতে, ধসে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।”
একজন অটোরিকশা চালক জানান,
“রাস্তার উপর মাটি পড়ে পিচ্ছিল হয়ে যায়, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে।”
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে অবাধে পাহাড় কাটার ফলে শুধু স্থানীয় পরিবেশ নয়, পুরো অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরিবেশবিদ (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
“পাহাড় কাটা বাংলাদেশের পরিবেশ আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এভাবে পাহাড় কাটা চলতে থাকলে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা এবং জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে, যা প্রাণহানির কারণ হতে পারে।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে এভাবে পাহাড় কাটার পরও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।