আব্দুস সালাম,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীতে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং সবার গুনাহ মাফের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শুরু হওয়া আখেরি মোনাজাত চলে ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ তাবলিগ জামায়াতের শুরা সদস্য মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ।
মোনাজাত শুরু হওয়ার পরপরই আমিন, আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ইজতেমা ময়দান। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ও নিজেদের গুনাহ মাফের আশায় দুই হাত তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজারো মুসল্লি। সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের।
ইজতেমা ময়দান মুসল্লিতে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়ক, বাসাবাড়ি ও যানবাহনে বসেও মোনাজাতে অংশ নেন অনেকে। সড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রীরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে নীরবে হাত তুলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই নীলফামারীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় ময়দান ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কেও অবস্থান নেন ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতা।
মোনাজাতে বিভিন্ন বয়স ও নানা পেশার মানুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নেন। লাখো মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠে আমিন ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা।
মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি দেশের মানুষের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ এবং ব্যক্তিগত জীবনের সব গুনাহ ক্ষমার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান মুসল্লিরা।
জানাযায়, এবারের ইজতেমায় ছয় দেশের ১২ জন বিদেশি নাগরিকসহ দেশ-বিদেশের হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণে নীলফামারীতে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। ধর্মীয় বয়ান, ইবাদত-বন্দেগি ও আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সদর উপজেলার দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস কলোনি মাঠে এ ইজতেমা শুরু হয়। শনিিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন।
ইজতেমায় অংশ নেওয়া ১২ জন বিদেশি নাগরিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, সুদান ও সৌদি আরবের বাসিন্দা। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও আশপাশের উপজেলা থেকে হাজারো মুসল্লি ইজতেমায় অংশ গ্রহন করেন।
বাংলাদেশ তাবলিগ জামায়াতের শুরা সদস্য মাওলানা মুনির বিন ইউসুফসহ ঢাকা থেকে আসা তাবলিগ জামাতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, ইজতেমায় অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা মাঠে আসতে শুরু করেন। তাদের আগাম উপস্থিতির কারণে বুধবার সন্ধ্যায় বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাঠে মুসল্লিদের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ ধর্মীয় আলোচনা শুনতে এবং সম্মিলিতভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে অংশ নিতে মাঠে সমবেত হয়।
ইজতেমায় পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে ধর্মীয় বয়ান, নামাজ, জিকির-আজকার, দোয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এবারের আলোচনায় ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, মানবকল্যাণ, পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ, দ্বীনের দাওয়াত এবং পরকালীন জীবনের প্রস্তুতির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আয়োজক কমিটির উত্তরবঙ্গের সভাপতি প্রভাষক দিদারুল ইসলাম বলেন, “ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে জানানো, আত্মশুদ্ধির চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরা। আমরা চাই, এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হোক।