নিজস্ব প্রতিবেদক:
কাঁঠালিয়া উপজেলাতে উপসহকারী কৃষি কমর্কর্তা জাহিদুল ইসলাম বসির বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
চারা বিক্রি, কৃষি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও কৃষকদের প্রাপ্য সুবিধা বঞ্চনার অভিযোগে কৃষি মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তিনি ঝালকাঠিতে যোগদানের পর থেকেই সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ কৃষকরা। তিনি কয়েকজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিয়ে লুটপাটের এক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এসব ঘটনায় গত এক সপ্তাহে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে কয়েকটি অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন কৃষক রা।
দৈনিক সত্য প্রকাশ কে কৃষকরা জানান, প্রদর্শনী প্রকল্পে কেবল সাইনবোর্ড, সামান্য কিছু চারা ও সার পেয়েছেন তারা। চাষিরা ব্যাগিং সিস্টেমের ব্যাগও পাননি। কৃষক ভক্ত অভিযোগ করে বলেন, সেবার জন্য গেলে কৃষি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খারাপ আচরণ করেন এবং কৃষকদের ডেকে দুপুরের খাবার খাওয়াতে বলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দৈনিক সত্য প্রকাশ কে জানান, পারিবারিক পুষ্টি বাগানের ৩৪০টি প্রদর্শনী দেওয়ার কথা থাকলেও একটি প্রদর্শনীও বাস্তবায়ন হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন,অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে কৃষি উপসহকারী কৃষি কমর্কর্তা জাহিদুল ইসলাম বসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান,আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
প্রণোদনার ধান ও সার কৃষকদের না দিয়ে তা তিনি বিভিন্ন প্রদর্শনীতে দিয়েছেন। আবার কৃষকদের মাঝে প্রদর্শনীর বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের তা বরাদ্দ দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রদর্শনীতে বরাদ্দকৃত মালামাল বিতরণ না করে ভুয়া মাস্টার রোল করেছেন।
এছাড়াও বিভিন্ন কাজ ও পরামর্শের জন্য কৃষকরা তার অফিসে গেলে উপসহকারী কৃষি কমকর্তা জাহিদুল ইসলাম বসির তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ ও ব্যবহার করেননি। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি এ কথা বলে বিগত সরকারের আমলে সবাইকে ভয় দেখাতেন।
এদিকে এই দুর্নীতিগ্রস্ত উপজেলা উপসহকারী জাহিদুল ইসলাম বসির কে দ্রুত অপসারণসহ তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার কৃষক ও কৃষাণীরা। কৃষি বসিরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণ না করা হলে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান তারা।