মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর ইউনিয়নে সিঙ্গিয়া–রহমতপুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৌশল নীতিমালা উপেক্ষা করে রোলার ছাড়াই পিচ ঢালাই এবং নিম্নমানের ইট–খোয়া ব্যবহারের ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও দায়সারা কাজের কারণে তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। অভিযোগ রয়েছে, রাস্তা নির্মাণে ব্যবহৃত ইট ও খোয়া অত্যন্ত নিম্নমানের, যা সামান্য চাপেই ভেঙে যাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, খোয়া বিছানোর পর ভারি রোলার দিয়ে কমপ্যাকশন না করেই তড়িঘড়ি করে পিচ ঢালাই দেওয়া হচ্ছে, যা প্রকৌশল বিধির সরাসরি লঙ্ঘন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার মাঝখান ও দুই পাশের উচ্চতায় অস্বাভাবিক পার্থক্য রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এভাবে কাজ চললে কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কটি ভেঙে পড়বে এবং সরকারি অর্থের অপচয় হবে।
কাজের সাইডে দায়িত্বে থাকা আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়। গ্রামবাসী রাস্তার যে আনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সেটা কি ঠিক আছে? উত্তরে আব্দুল্লাহ বলেন গ্রামবাসী যে অভিযোগ তুলেছেন সেটা ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ( নাজমুল, আসাদুল, বাবলু, আলাউদ্দিন বলেন,
“এই রাস্তায় যে ইট দেওয়া হয়েছে, তা হাত দিয়েই ভেঙে যাচ্ছে। রোলার ছাড়াই পিচ ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। এভাবে কাজ হলে দুই মাসও টিকবে না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমজাদ ট্রেডার্সের প্রোপাইটর রমেন জানান, উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করা হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, তাদের টিম কাজ পরিদর্শন করেছে এবং বড় কোনো সমস্যা নেই, ‘উনিশ–কুড়ি’ পার্থক্য হতে পারে।
অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও গ্রামবাসীরা কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করে নতুন করে কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে নিম্নমানের এই সড়ক অচিরেই জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।