আবু কাওসার মাখন
রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পার হতে চললেও প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের এই রহস্যজনক ভূমিকা এবং মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তারে অনীহা নিয়ে রাজশাহীর সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, প্রধান আসামি নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজসহ হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ‘পলাতক’ বলছে। এমনকি আসামিদের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য দিলেও পুলিশ অভিযানে অনীহা প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে এই হামলা চালানো হয়েছে। অপরাধীরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার কথা স্বীকার করে দম্ভোক্তি দিচ্ছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের দাবি, হামলাকারীরা প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার দাপট দেখাচ্ছে।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের ভূমিকা এখন জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, ওসি সক্রিয় হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা দেখাচ্ছেন না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এজাহারনামীয় আসামি ছাড়া অন্য কাউকে এই মূহুর্তে (অজ্ঞাতনামা) তিনি গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়। তবে হামলায় সময় উপস্থিত অজ্ঞাননামা আসামীদের ওইখানে থাকার প্রমাণ দিলে অবশ্যই তাঁদের গ্রেফতার করা হবে। (হামলায় অংশ নেওয়াদের ভিডিও ফুটেজে সংগৃহীত)
অভিযোগ উঠেছে, ওসি আসামিপক্ষের ইশারায় চলছেন এবং মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। ঈদের আগে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া না হলেও, ঈদের পর থেকে লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”
এজাহার সুত্রে জানা যায়, রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে বেশ কিছুদিন ধরে নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজসহ তাদের সহযোগীরা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল সন্ত্রাসী ক্লাবে তাণ্ডব চালায়।
হামলা চলাকালীন প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে সভাপতির মাথায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। অন্য এক সন্ত্রাসী সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমের পেটে আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তার উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ১৩টি সেলাই দিতে হয়। তিনি বর্তমানে নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন।
এ নেক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার (৮ মার্চ) বেলা ১২টায় মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ গত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত। মিলনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় তার ভূমিকা ছিল সাধারণ মানুষের বিপক্ষে। এই অপরাধীদের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার বিষয়টি নিয়েও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার উপর হামলায় ঘটনায় তাঁদের নামে মামলা হয়। ওই মামলায় তাঁরা দীর্ঘদিন পলাতক ছিলো। এরপর দু-একজন বিতর্কিত নেতার ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেন। প্রশাসনকে ম্যানেজ প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ান। (ছাত্র-জনতার উপর হামলার ভিডিও ফুটেজে সংগৃহীত)
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
তবে অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তার অনীহার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমরা এখন এজাহারনামীয় আসামি ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারছি না”।
সাংবাদিক সমাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।