নিজস্ব প্রতিবেদক,
শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যকে জয় করার নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নিজ সন্তানের সাথে চরম বিবাদে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়ন (৩ নং ওয়ার্ড)-এর বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকার গেন্ডারিয়া ‘সাধনা নিকেতন’ ১ নং গলিতে বসবাসরত আমেরিকান প্রবাসী হাফেজ মোক্তারুর রহমান মীরধার বিরুদ্ধেই এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৬৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তির অনৈতিক জীবনযাপনের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তার মেজ ছেলে মতিউর রহমান রিয়াদ। সম্প্রতি রিয়াদ সপরিবারে কানাডা প্রবাসী হওয়ার পর মোক্তারুর রহমান বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। ছেলের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি মেজ ছেলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এমনকি মুন্সীগঞ্জের কতিপয় অসাধু গণমাধ্যম কর্মীদের ব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে ভুয়া স্ট্যাম্প তৈরি করে ছেলেকে ‘তাজ্যপুত্র’ করার ঘোষণা দেন। পরিবারের দাবি, ভবিষ্যতে যেন তার অপকর্মে কেউ বাধা দিতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই সাজানো নাটক।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পেসমেকার ও হার্নিয়া অপারেশনের মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও মোক্তারুর রহমান অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যবয়সী নারীদের মাধ্যমে নিজের শরীর মালিশ করানোর নেশায় মত্ত রয়েছেন। এমনকি এই বয়সে এসেও তিনি একাধিক বিয়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে পাত্রী দেখে বেড়াচ্ছেন। তার এহেন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ও পরিবারের সচেতন সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছে, তার ভাই-বোনদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও একই ঘরানার এবং তারাও এসব কাজে পরোক্ষ মদদ দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, নিজেকে তথাকথিত ‘তরুণ’ প্রমাণ করার জন্য তিনি কাজুবাদাম, মধু ও কালোজিরাসহ বিভিন্ন ভেষজ উপাদানের ওপর নির্ভর করছেন। তবে স্থানীয়দের মতে, মানসিক বিকারগ্রস্ততা এবং চারিত্রিক স্খলনের কারণে তিনি পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোক্তারুর রহমান মীরধা ও তার বংশের অন্যান্যদের এসব সামাজিক ও নৈতিক অপরাধের প্রমাণ পর্যায়ক্রমে জনসম্মুখে আনা হবে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।