মনিরুল আমিন(চকরিয়া)কক্সবাজার-
কক্সবাজারের টেকনাফে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা বিল উত্তোলন ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী আরিফের বিরুদ্ধে। বর্তমানে এই দুর্নীতির দাগ মুছতে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে বাঁচতে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে চকরিয়ায় বদলি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে,২০২৩ সালে সেন্টমার্টিনের বঙ্গবন্ধু সড়কে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন কাজে নজিরবিহীন অনিয়ম করেছেন প্রকৌশলী আরিফ। নামমাত্র কিছু কাজ করে কোনো প্রকৃত অগ্রগতি ছাড়াই পুরো বিল পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এই জালিয়াতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রবিউল সেই বিলটি বাতিল করেন।
এছাড়া শামলাপুর-টেকনাফ বিডিআর ক্যাম্প সড়কের তিনটি প্যাকেজে প্রায় ৬ কোটি টাকা অগ্রিম বিল প্রদান করেছেন তিনি। কাজ শুরুর আগেই ঠিকাদারকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাইয়ে দেওয়ায় বর্তমানে ওই তিনটি প্যাকেজের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেওয়ায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
চকরিয়ায় বদলির তদবিরের অভিযোগ উঠেছে,টেকনাফে থাকাকালীন এসব দুর্নীতির ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা এড়াতে ‘উপর মহল’ ম্যানেজ করতে মাঠে নেমেছেন আরিফ। চকরিয়ায় বদলি নিশ্চিত করতে তিনি ইতিমধ্যে ২০ লাখ টাকা নিয়ে লবিং শুরু করেছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার এমন তদবিরে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টেকনাফ ও শামলাপুর এলাকায় এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর কাজ মাঝপথে থমকে আছে। ঠিকাদাররা অগ্রিম টাকা পেয়ে যাওয়ায় কাজ শেষ করার কোনো তাগিদ দেখাচ্ছেন না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত না করে উল্টো তাকে সুবিধাজনক স্থানে বদলি করা হলে সরকারের উন্নয়ন ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি কথা না বলে মোবাইলের কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।