বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার শফিউল্লাহ কাটা, ক্যাম্প-১৫ (ডি ব্লক সংলগ্ন) এবং ক্যাম্প-১৬ (সি ব্লক সংলগ্ন) এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় এক পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তাদের কয়েক কোটি টাকার কৃষিজমি, বনজ সম্পদ, পুকুর এবং ফলজ গাছভিত্তিক জীবিকা আজ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এক সময় যে জায়গা ছিল তাদের জীবিকার প্রধান ভিত্তি—আজ সেখানে তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম করছেন।
পরিবারটির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের দীর্ঘদিনের গড়া সম্পদের মধ্যে ছিল লজ ও বনজ কৃষিজমি, গরু-ছাগল পালনের খামার, মাছ চাষের পুকুর, এবং আম, কাঠাল, লেবু, আমলকি, তুলাগাছসহ অসংখ্য ফলজ ও অর্থকরী গাছ। এসব সম্পদ থেকেই তারা পরিবারের সব খরচ চালাতেন এবং স্বাবলম্বী জীবন যাপন করতেন।
তাদের অভিযোগ, রোহিঙ্গা শরণার্থী আগমনের পর থেকে ধীরে ধীরে এলাকার জমি ব্যবহারের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের কৃষিজমি, খামার এবং ব্যবহারিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় বলে তারা দাবি করেন। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবিকা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।
পরিবারটি আরও অভিযোগ করেন, এই পরিস্থিতির বিষয়ে একাধিকবার বিভিন্ন পর্যায়ে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন সহায়তা পাননি। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট এনজিও ও প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বর্তমানে পরিবারটি চরম অর্থনৈতিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যে জমি ও সম্পদ এক সময় তাদের জীবনের শক্ত ভিত্তি ছিল, তা হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারটির পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে—হারানো সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
তাদের ভাষায়, তারা দয়া নয়, বরং তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে চান।
এদিকে এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হলেও প্রকৃত তদন্ত ও বাস্তব চিত্র এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।