1. admin@moheshpurnews24.com : admin :
October 17, 2026, 11:21 pm
শিরোনামঃ
কোস্টগার্ডের সফল অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান, জব্দ মালামাল নিলামে বিক্রি নেত্রকোনায় রেলওয়ের জমির লিজ নিয়ে বিরোধ, বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন কোটচাঁদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পৌর কবরস্থানের পরিচ্ছন্নতা অভিযান সাদুল্লাপুর উপজেলায় ব্রিজের নিচে পানিতে ভাসছিল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিষ্কার পরিছন্নতা অভিযান পরিচালনা বালিয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ৬০টি মশারি বিতরণ দূর্গাপুরে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে নেত্রকোনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ মহেশপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে শাড়ি বিতরণ করলেন এমপি মতিয়ার রহমান।
ব্রেকিং নিউজঃ
কোস্টগার্ডের সফল অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান, জব্দ মালামাল নিলামে বিক্রি নেত্রকোনায় রেলওয়ের জমির লিজ নিয়ে বিরোধ, বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন কোটচাঁদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পৌর কবরস্থানের পরিচ্ছন্নতা অভিযান সাদুল্লাপুর উপজেলায় ব্রিজের নিচে পানিতে ভাসছিল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিষ্কার পরিছন্নতা অভিযান পরিচালনা বালিয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ৬০টি মশারি বিতরণ দূর্গাপুরে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে নেত্রকোনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ মহেশপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে শাড়ি বিতরণ করলেন এমপি মতিয়ার রহমান।

আজ ২৩ জুন, ঐতিহাসিক পলাশী দিবস”

  • Update Time : Tuesday, June 23, 2026

খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ

আজ (২৩ জুন, মঙ্গলবার) ঐতিহাসিক পলাশী দিবস। ১৭৫৭ সালের এই দিনে পলাশীর আম্রকাননে ব্রিটিশদের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রহসনের যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য প্রায় দুইশ বছরের জন্য অস্তমিত হয়।
মীরজাফর-ঘষেটি বেগমরা সেই প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কুশীলব। এক ঘণ্টার প্রহসনের যুদ্ধে পরাজয় ঘটে বাংলা, বিহার ও ওডিশার নবাব সিরাজউদ্দৌলার। আজকের এই দিনের ইতিহাস প্রকৃত সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করার ইতিহাস।
ঘৃণিত কলঙ্কজনক এই প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের অধ্যায় সৃষ্টির পেছনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল বিশ্বাসঘাতক জগৎ শেঠ, মীরজাফর, মাহতাব চাঁদ, উমিচাঁদ বা আমির চন্দ, মহারাজা স্বরূপচাঁদ, ইয়ার লতিফ, রায়দুর্লভ, ঘসেটি বেগমের ক্ষমতার লোভ। রাজা রাজবল্লভ, মহারাজ নন্দকুমার, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়, রানী ভবানী প্রমুখের কৌশলী চক্রও এর পেছনে প্রচ্ছন্ন ছিল।
বেদনাবহ সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে প্রতি বছর দিনটিকে পালন করে আসছে ‘পলাশী ট্র্যাজেডি দিবস’ হিসেবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ষোলো শতকের শেষের দিকে প্রাচ্যে ওলন্দাজ, পর্তুগিজ ও ইংরেজদের ব্যাপক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। এক পর্যায়ে ইংরেজরা হয়ে যায় অগ্রগামী। বাংলার সুবেদার – দেওয়ানরাও ইংরেজদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। তারপর বিশ্বাস ঘাতকতায় পরাজয় হয় বাংলার।

যুদ্ধক্ষেত্রে এই স্বার্থান্বেষী ষড়যন্ত্রীদের শিকার ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিপাহসালার নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং তার বিশ্বস্ত সেনাপতি বকসী মীরমদন, প্রধান আমাত্য মোহনলাল কাশ্মিরী ও নবে সিং হাজারী।
পলাশী যুদ্ধে ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্রে তাদের আধিপত্যবাদের জয় হয়েছিল আর পতন হয়েছিল বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে ২৩ মাইল দক্ষিণে ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল দেশমাতৃকা রক্ষার যুদ্ধ।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসন থেকে উচ্ছেদ করার জন্য দুজন খ্যাতিমান ব্রিটিশ সেনাপতি ক্যাপ্টেন ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের নেতৃত্বে একদল সৈন্যকে জাহাজে মাদ্রাজ থেকে বাংলায় পাঠানো হয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নবাবকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করে বাংলার মসনদ দখল করা।
পলাশীর আম্রকাননে সকাল সাড়ে ১০টায় ইংরেজ ও নবাবের বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেদিনের সেই যুদ্ধে কুচক্রী ষড়যন্ত্রকারীদের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে ক্লাইভের ৮০০ সৈন্যসহ ৩ হাজার সৈন্যের কাছে ২৮ হাজার অশ্বারোহী ও ৫০ হাজার পদাতিক সৈন্য নিয়েও নবাব বাহিনীর অপ্রত্যাশিত পরাজয় ঘটে। জয় হয় বিশ্বাসঘাতকদের। সেই সঙ্গে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য প্রায় দুইশ বছরের জন্য হারিয়ে যায় ঔপনিবেশিকতার নিশ্ছিদ্র আঁধারে।
পরবর্তী সময়ে নবাব সৈন্যদের সংগঠিত করে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা মীর জাফরের পুত্র মীরনের নির্দেশে মোহাম্মদ আলী বেগের ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে নিহত হন। এরপর মসনদে বসেন মীর জাফর। পলাশী যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড দাবি করা হয়। একের পর এক নবাব বদল হতে থাকে।
১৭৬৪ সালে বক্সারের চূড়ান্ত যুদ্ধে ব্রিটিশরা বাংলার ক্ষমতা দখল করে নেয়। ক্রমান্বয়ে গোটা ভারতবর্ষ ব্রিটিশ আধিপত্যবাদের কবলে নিপতিত হয়। ভারতবাসীকে দীর্ঘ প্রায় দুইশ বছর গোলামির শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে হয়।
ইতিহাসবিদ মোবাশ্বের আলী তার ‘বাংলাদেশের সন্ধানে’ গ্রন্থে লিখেছেন, মীর জাফরের মোনাফেকিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রায় লাখ সেনা নিয়ে ক্লাইভের স্বল্পসংখ্যক সেনার কাছে পরাজিত হন। কুষ্ঠরোগে মৃত্যু হয় অতি ঘৃণ্য মীর জাফরের। কিন্তু বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি এই যে, মীর জাফররা বারবার গোর থেকে উঠে আসে। বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব আলিবর্দী খাঁ মৃত্যুর আগে দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে নবাবের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী করে যান।
নবাব আলিবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর ১৭৫৬ সালের এপ্রিল মাসে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন। নবাবের খালা ঘষেটি বেগম হাত মেলান ইংরেজদের সঙ্গে। তারই হাত ধরে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন সেনাপতি মীর জাফর আলি খান, ধনকুবের জগত শেঠ, রাজা রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ, ইয়ার লতিফ প্রমুখ। সন্ধির চুক্তি ভঙ্গ করে চন্দন নগরের ফরাসিদের দুর্গ দখল করে নেয় ধূর্ত ইংরেজরা। এরপর ১৭৫৭ সালের ১৭ জুন ক্লাইভ কাটোয়ায় অবস্থান নেয়। নবাব ২২ জুন ইংরেজদের আগেই পলাশী পৌঁছে শিবির স্থাপন করেন। ২৩ জুন সকাল ৮টায় যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় ঘটে।
পলাশী বিপর্যয়ের পর শোষিত বঞ্চিত শ্রেণি একদিনের জন্যও স্বাধীনতা সংগ্রাম বন্ধ রাখেনি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্মলাভ করে। এরপর ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।

২৩ জুন আমাদের জাতীয় জীবনে যেমন এক কলঙ্কের দিন, তেমনি তা এক শিক্ষণীয় দিবসও বটে। বাংলার ইতিহাসে এই পলাশী অধ্যায় যেমন ন্যক্কারজনক হৃদয়বিদারক ঘটনা, তেমনি আমাদের জাতীয় জীবনে এর মাশুল দিতে হয়েছে দীর্ঘ ২০০ বছরের গোলামির জিঞ্জির। ২৩ জুনের পলাশীর ইতিহাস, কিছু বিশ্বাসঘাতক চক্রান্তকারীর যোগসাজশে দেশের স্বাধীনতা বিদেশি বেনিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার ইতিহাস। ২৩ জুনের ইতিহাস প্রকৃত সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করার ইতিহাস।
পরিশেষে একটা কথাই বলতে হয়, স্বাধীনতা দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। দেশপ্রেম দেশের সবচেয়ে বড় আমানত। এই সত্যটা জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিককে আমাদের সর্বদাই মনে রাখতে হবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে দেশকে ভালোবাসতে হবে।
প্রতিবছরের ২৩ জুন আমাদের এই সতর্কবাণী শুনিয়ে যায়, দেশের ভেতরের শত্রুরা বাইরের শত্রুর চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর। আমরা কি ২৩ জুনের কালো অধ্যায় থেকে আদৌ কোনো শিক্ষা নিতে পেরেছি? ইতিহাসের বড় শিক্ষা হলো এই যে ‘ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না’।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
Theme Customized By bdit.com.bd