স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের টহল জোরদারের অংশ হিসেবে পরিচালিত এক ভোরের অভিযানে দস্যুতার প্রস্তুতিকালে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি ধারালো চাকু। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সঙ্গে থাকা আরও দুই সহযোগী দ্রুত পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইংরেজি ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার একটি টহল দল নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এর সামনের সড়কে তিনজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখে। ভোরের নীরব সময়ে তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সদস্যরা তাদের থামতে নির্দেশ দেন।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনজনই দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে টহল দল তাৎক্ষণিক ধাওয়া শুরু করে। ধাওয়া শেষে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম আশরাফুল আলম (৩০)। পরে তার দেহ তল্লাশি করে দুটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আশরাফুল আলমের পারিবারিক পরিচয় যাচাই করে জানা যায়, তার পিতা মৃত সরোয়ার আলম এবং মাতা মোছাঃ আছমা খাতুন। তিনি সদর উপজেলার গাইটাল শিক্ষকপল্লী পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের ধারণা, তিনি ও তার সহযোগীরা ভোরের নির্জন সময়ে পথচারী বা হাসপাতালগামী লোকজনকে টার্গেট করে দস্যুতা বা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিল।
ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা অপর দুই সহযোগী অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তাদের পরিচয় শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা নং-৩৬(৪)২৬ রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ, হাসপাতাল এলাকা, বাসস্ট্যান্ড ও নির্জন সড়কগুলোতে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাত ও ভোরের সময় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে তথ্য দিতে নাগরিকদের পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে শহরে দস্যুতা ও ছিনতাই প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।