কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয় অর্জন করেছেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। ফলাফল ঘোষণার পরপরই ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজারকেন্দ্রে সমর্থকরা মিছিল, শোভাযাত্রা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে বিজয় উদ্যাপন করেন। হাওরবেষ্টিত এ জনপদে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দলীয় কার্যালয়গুলোতে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে এ বিজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। অনেকের মতে, দীর্ঘ সময় পর এ আসনে রাজনৈতিকভাবে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
বিজয় প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইটনা উপজেলার কৃতী সন্তান ডা. ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী লাকী। তিনি মরহুম আলহাজ্ব ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী কাঞ্চনের পুত্র। উল্লেখ্য, ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী কাঞ্চন অতীতে এ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় ডা. লাকীও স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. লাকী বলেন, “এ বিজয় গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তরুণ প্রজন্ম ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ পরিশ্রমের ফলেই এ সাফল্য এসেছে।” তিনি ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, হাওরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বন্যা ও নদীভাঙন প্রতিরোধ, কৃষি ও মৎস্যখাতের উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। এসব বিষয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অগ্রাধিকার দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে ডা. লাকী বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ঐক্যের বিকল্প নেই। সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা ব্যাপক হলেও হাওরাঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা বড় চ্যালেঞ্জ। তাই অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।
ডা. লাকী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের জনগণ উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আগামীতেও ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখবে।