ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
‘নিরাপদ সড়ক চাই, We Demand Safe Road’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং নিরাপদ গতিসীমা নিশ্চিত করার দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশ। রাজধানীর ঢাকা শিল্পকলায় আয়োজিত এ মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নিসচার নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা অংশ নেন।
মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অগ্রদূত ও নিসচার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছেন।
মহাসমাবেশে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কমিটির নেতৃবৃন্দও অংশ নেন। এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে মাঠপর্যায়ে ভূমিকা রাখার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
সেরা উপজেলা সভাপতি কিশোরগঞ্জের মোবারক হোসেন সুমনকে সম্মানীসূচক এওয়ার্ড দেওয়া হয়৷
মহাসমাবেশে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিসচার সভাপতি মোবারক হোসেন সুমনকে ‘সেরা উপজেলা সভাপতি’ হিসেবে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয়তা, নেতৃত্বদানের সক্ষমতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার প্রচারে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় নিসচার কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে কাজ করছেন মোবারক হোসেন সুমন। নিরাপদ সড়ক বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি, চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রমকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
সহকর্মীদের মতে, সংগঠন পরিচালনায় তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নিয়মিত মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি, কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা এবং যেকোনো কর্মসূচিকে পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা। তার নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিসচা নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আসছে।
মোবারক হোসেন সুমন বলেন, “এই পুরস্কার শুধু আমার একার অর্জন নয়। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিসচার সব নেতাকর্মীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
মহাসমাবেশে বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং চালক, পথচারীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নিসচার নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন মানুষের আচরণগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা।