সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা :
সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টিতে অবৈধভাবে পেট্রোল মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকে রাত অবধি জেলার ১০ টি উপজেলায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। শুক্রবার দিবাগত রাতে জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান জানান, জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ৮ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন আইনের বিভিন্ন ধারায় ৪১ টি মামলায় ৪১ জন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সর্বমোট ৮৫,৮০০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অভিযানে কেন্দুয়া উপজেলায় ৮০০ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ করার পাশাপাশি এক অসাধু ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর বাজারে ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমান কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেলের ব্যবসা করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে, তিনি ড্রামে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল অবৈধভাবে নিজ গুদামে মজুত করেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিফাতুল ইসলামের নেতৃত্বে সেখানে ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় এবং বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমানকে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অভিযানকালে ৩টি পূর্ণ ও ৩টি আংশিক খালি ড্রামসহ মোট ৮০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এই পেট্রোল শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে রামপুর বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এবং নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে, সাধারণ ক্রেতাদের কাছে প্রকাশ্যে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অভিযান শেষে কেন্দুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল ইসলাম জানান, ‘জ্বালানি তেলের মতো জরুরি পণ্যের সংকটকে পুঁজি করে কেউ যাতে ফায়দা লুটতে না পারে, সেজন্য প্রশাসন সজাগ রয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে একইদিনে মদন ও বারহাট্টা উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিপণন ও মজুত তদারকি করা হয়। মদন উপজেলার মেসার্স সাম্য ফিলিং স্টেশনে অভিযানকালে রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী সাম্য ফিলিং স্টেশনকে ৯ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামগামী বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়ে যাত্রীদের বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে প্রশাসন। বারহাট্টা উপজেলার মেসার্স শুভ্র শান্তি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিপণন এবং মজুত মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করা হয়। তেল বিক্রির সময় আবশ্যিকভাবে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্সবিহীন ও হেলমেটবিহীন মোটরযানে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর বিভিন্ন ধারায় জরিমানা করা হয়। জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা ও পাচার রোধে সদা তৎপর রয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়। জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সরকারি নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে চলা হচ্ছে কিনা তা মনিটরিংয়ে অভিযান চলমান রয়েছে। অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কে নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।