সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা : সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রকাশিত প্রতিমন্ত্রীর খসড়া তালিকার তার নাম দেখা যায়। এরআগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাকে শপথ গ্রহণের জন্য টেলিফোনে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই সরাসরি মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়া নেত্রকোনাবাসীর জন্য একটি বড় চমক। মঙ্গলবার দুপুরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজেই প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, তাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হচ্ছে। নবগঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তির খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার জন্য ফোন পেয়েছি। দল আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, এর প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই আমি দিতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই, আমি যেন আমার দেয়া কথা রাখতে পারি।”
তিনি তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালনের অঙ্গীকার করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এই নেতা। নির্বাচনে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী গোলাম রব্বানীর চেয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, কায়সার কামাল তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭০ হাজার ৮৯৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবরে তার নির্বাচনী এলাকা দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় আনন্দের বন্যা বইছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, তাদের প্রিয় নেতা এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন।মঙ্গলবার শপথের ডাক পাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয় এবং মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে তার সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হচ্ছে।