1. admin@moheshpurnews24.com : admin :
April 14, 2026, 10:43 pm
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় উৎসব মুখর পরিবেশে একুশে টিভি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত  কৃষক কার্ড শুভ উদ্বোধন ও বিতরণ অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। সুনামগঞ্জে ডিসির নিষেধ অমান্য করে বর্ষবরণ পালন করলো উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নববর্ষ উপলক্ষে স্বর্ণকারদের হালখাতা: ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গাইবান্ধা উপজেলায় ঘাঘট নদী থেকে স্কুলছাত্র মরদেহ উদ্ধার নীলফামারীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বর্ণিল আয়োজনে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন অন্তরা কবিরের বৈশাখী প্রেম। নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ নেত্রকোনায় জমকালো নানান আয়োজনে পালিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ
ব্রেকিং নিউজঃ
সাতক্ষীরায় উৎসব মুখর পরিবেশে একুশে টিভি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত  কৃষক কার্ড শুভ উদ্বোধন ও বিতরণ অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। সুনামগঞ্জে ডিসির নিষেধ অমান্য করে বর্ষবরণ পালন করলো উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নববর্ষ উপলক্ষে স্বর্ণকারদের হালখাতা: ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গাইবান্ধা উপজেলায় ঘাঘট নদী থেকে স্কুলছাত্র মরদেহ উদ্ধার নীলফামারীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বর্ণিল আয়োজনে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন অন্তরা কবিরের বৈশাখী প্রেম। নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ নেত্রকোনায় জমকালো নানান আয়োজনে পালিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ

সুনামগঞ্জে ডিসির নিষেধ অমান্য করে বর্ষবরণ পালন করলো উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী

  • Update Time : Tuesday, April 14, 2026

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
“লুটপাটতন্ত্রের বিনাশ হোক,সংস্কৃতির জয় হোক,প্রতিবাদ হোক প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির এবং দালাল কুকুর হইতে সাবধান”ইত্যাদি শ্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা,আলোচনা সভা ও গান নাটক পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে সুনামগঞ্জে একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। বর্ষবরন উদযাপনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জেলা শাখার আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপক্ষো করেই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান করেছেন জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ শহরের হোসেন বখত চত্বরে গানে গানে বর্ষবরণ উদযাপন করে জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সকালে প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশন ও দুপুরে জাহাঙ্গীর আলমের রচনায় ও সাইদুর রহমান আসাদের সঞ্চালনায় পথনাটক বাঁধ মঞ্চস্থ করা হয়। শেষে শহরে গানের মিছিল বের করা হয়।

জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ও সহ সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান আসাদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা মোঃ রেজাউল হক, লেখক সুখেন্দু সেন, জেলা সিসিপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব মোনাজ্জির হোসেন সুজন, জেলা খেলাঘরের সভাপতি বিজন সেন রায়, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খলিল রহমান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষক সন্তোষ কুমার চন্দ মন্তোষ, সোহেল রানা, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবু তাহের মিয়া, হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ওাবয়দুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন শ্রেণির সংস্কৃতিমনা লোকজন অংশগ্রহণ করেন ও সংহিত প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন,একটি বা দুটি নয় একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইলিয়াস মিয়া সংস্কৃতিবিরোধী একজন উগ্র প্রশাসক। মব সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে উদীচীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অবাঞ্চিত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মুক্ত সংস্কৃতি চর্চার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছেন, যা সুনামগঞ্জের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি।

এর আগে রোববার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায় ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতির জন্য আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গানের তালিকা ও অন্যান্য পরিবেশনার বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। উদীচীর নেতারা এই শর্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে বিকল্প স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে জেলা প্রশাসন জানিয়ে দেয় যে সুনামগঞ্জ শহরের কোথাও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বাধীন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পরিপন্থি এবং এটি মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চাকে বাধাগ্রস্থ করার শামিল। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, নানা প্রতিকূলতা স্বত্তেও উদীচী সবসময়ই গণমানুষের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। শহরের উন্মুক্ত স্থানে বিকল্পভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তারা।
জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ উদীচী সবসময় বঞ্চিত মানুষের, গণমানুষের কথা বলে। জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় আমরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমাদের অনুষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত জায়গা সুরমা নদীর তীরের রিভারভিউর বটতলায় জেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আমরা উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণ ও হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের অনিয়ম-দুর্নীতির নিয়ে প্রতিবাদী নাটক বাঁধ মঞ্চস্থ করেছি।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০০৮ সাল থেকে সুনামগঞ্জে উদীচীর অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। প্রশাসনের অনুমতির জন্য আবেদন করার পর উদীচীর কাছে গানের তালিকা ও নাটকের স্ক্রিপ্ট চাওয়া হয়। কিন্তু উদীচী কারো কাছে এসব দিতে দায়বদ্ধ নয়। হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের অনিয়ম-দুর্নীতি ও কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে উদীচী কথা বলায় জেলা প্রশাসন কোথাও অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি। উদীচী গণমানুষের একটি সংগঠন তাই বৈশাখের তপ্ত আবহাওয়া ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা সিসিপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, জেলা প্রশাসনের কথামতো অনুষ্ঠান করতে হবে এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উদীচীর অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে জেলা প্রশাসন মোটেও ভালো কাজ করেননি। বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া পাকিস্তানি চিন্তা-চেতনার শামিল।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যেহেতু সরকারিভাবে সব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। উদীচীকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

সেখানে আলাদা অনুমোদন দেওয়া যায় কীভাবে।
এদিকে প্রশাসনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সুনামগঞ্জ পৌরচত্তরে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে উদীচীর পাশে দাড়ানোর জন্য সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক গীতিকবি নজরুল ইসলাম,যুগ্ম আহবায়ক সাংবাদিক বাউল আল হেলাল ও সদস্যসচিব নাট্যকর্মী আফতাব উদ্দিন। তারা বলেন,গত দেড় বছরে ডিসি ইলিয়াস মিয়া সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিকে একটি দুর্নীতির সিন্ডিকেটে পরিণত করেছেন। এজন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ফসলরক্ষা বাঁধ পিআইসি বাণিজ্য নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একাধিক অভিযোগে অভিযুক্তও তিনি। এছাড়া মহামান্য হাইকোর্টে আদালত অবমাননাসহ একাধিক মামলার আসামী দুর্নীতিবাজ এই জেলা প্রশাসক। তারা ডিসি ইলিয়াস মিয়াকে সংস্কৃতিবিরোধী মব সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করে অবিলম্বে তাকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
Theme Customized By bdit.com.bd