মাহিদুল ইসলাম হিমেল
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া উপজেলা-তে সাম্প্রতিক নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও সহিংসতার অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠন ইউথ ফর ডেমোক্রেসি হাতিয়া।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পুরাতন কোট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এসব তথ্যের অনেকগুলো বানোয়াট এবং কিছু আংশিক সত্য হলেও অধিকাংশই এখনো তদন্তসাপেক্ষ।
বিশেষ করে সম্প্রতি এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে একটি ঘটনা জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক পছন্দকে কেন্দ্র করে সহিংসতার হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার চূড়ান্ত সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। এছাড়া মেডিকেল পরীক্ষা (ডিএনএ)-এর ফলাফলও এখনো প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেল রিপোর্ট পেতে ৪ থেকে ৭ দিন সময় লাগতে পারে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিভিন্ন পক্ষ অভিযোগটিকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা সামাজিক বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করছে এবং হাতিয়ার মানুষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইউথ ফর ডেমোক্রেসি হাতিয়া চার দফা দাবি তুলে ধরে—
১. ঘটনার দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
২. অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দল-মত নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
৩. অভিযোগ মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব হিসেবে প্রমাণিত হলে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৪. তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, হাতিয়ার সুনাম, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। এবং প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান, যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং অযাচিত উত্তেজনার অবসান ঘটে।