আব্দুস সালাম,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারী সদরের ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ্ ফকিরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তিনি জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে নাম রয়েছে। এর মধ্যে রামগঞ্জ ট্রাজেডি সংক্রান্ত হত্যা মামলা (জিআর নং ৩২০/২৪) অন্যতম। এছাড়া ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা (জিআর নং ২৬৯/২৪) এবং একই দিনে শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের হওয়া আরেকটি মামলা (জিআর নং ২৬৭/২৪) তেও তাকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি মামলায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি দল পরিবর্তন করেন। গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এ যোগ দেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচার রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তার এই দলবদল স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে।
দল পরিবর্তনের সময় তিনি এক বক্তব্যে দাবি করেছিলেন, তিনি জনগণের পাশে থেকে কাজ করার লক্ষ্যেই নতুন দলে যোগ দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান—এটা কি আদর্শের পরিবর্তন, নাকি সুবিধাবাদী সিদ্ধান্ত? জনগণ সবই দেখছে, সবই বুঝছে। ফলাফল এখন স্পষ্ট। নীলফামারীতে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত। আর প্রবাদটাই যেন বাস্তব হয়ে উঠেছে—
“আমও গেল, ছালাও গেল।”
রাজনীতি যদি ব্যক্তিস্বার্থের খেলায় পরিণত হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দল, বিভ্রান্ত হয় কর্মীসমর্থক, আর আস্থাহীন হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ।
সময়ের দাবি—দলবদল নয়, হোক নীতি ও জবাবদিহিতার রাজনীতি।
এছাড়াও স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন সুবিধা বণ্টনে অনিয়ম ও সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক আচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।