স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রামে সহিংসতার পরিবর্তে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে জেলা পুলিশ। রবিবার (১৪ জুন ২০২৬) সকালে অষ্টগ্রাম থানা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র প্রশাসনের কাছে স্বেচ্ছায় হস্তান্তর করেন।
‘অস্ত্রের বদলে আস্থা, সহিংসতার বদলে সম্প্রীতি’ শীর্ষক এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র পুলিশের নিকট জমা দেন। স্থানীয়দের এই উদ্যোগকে সামাজিক সচেতনতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি অস্ত্র জমাদানে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।
সভাপতির বক্তব্যে ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, অষ্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ জনসাধারণের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, তারা সংঘাত নয় বরং শান্তি ও উন্নয়নের পথেই এগিয়ে যেতে চায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, সমাজে বিদ্যমান বিরোধ ও সহিংসতা কমাতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন ঘটাতে এ ধরনের জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিময় ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে শপথ গ্রহণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অষ্টগ্রামে স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদানের এই উদ্যোগ কেবল একটি প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়; এটি জনগণ ও পুলিশের পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ, যা জেলার অন্যান্য এলাকাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।