ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জ শহরে কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন সালমান সানি (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৫ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত সালমান সানি সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের সল্প যশোদল নোয়াপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো কোচিং শেষে বাড়ি ফিরছিল সানি। পথে রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন অজ্ঞাত যুবক তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় সানিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
এ ঘটনার পর শহরজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
সানির বাবা কামরুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে পড়াশোনা শেষে বাড়ি ফিরছিল। তার ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আহত শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।