কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে আলোচিত সড়ক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃবিভাগীয় একটি ডাকাত দলের কথিত সর্দারসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের যৌথ একটি দল সম্প্রতি কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কুষ্টিয়ার সুরত আলী (ওরফে সুরত), রাজবাড়ীর আলতাফ হোসেন (ওরফে আলতাফ) এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আরিফুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, গত ৯ জুলাই গভীর রাতে কোটচাঁদপুর থানার সাফদারপুর-কোটচাঁদপুর সড়কের কুশোকুড়ী মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তরা খেজুর গাছ ফেলে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। পরে মুখোশধারী ডাকাতরা মোটরসাইকেল আরোহী ও ট্রাকচালকদের গতিরোধ করে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে। ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে গ্রামীণ ব্যাংকের মুজিবনগর শাখার ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এ সময় পুলিশের টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, পিপিএম-এর নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এলাকা থেকে সুরত আলীকে লুণ্ঠিত মালামালসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজবাড়ীর পাংশা থানা এলাকা থেকে আলতাফ হোসেন এবং বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা সদর এলাকা থেকে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সুরত আলী ও আলতাফ হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরদিকে, আরিফুল ইসলামকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।