স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মানববন্ধন থেকে প্রকাশিত অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। নিয়মিত অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার কারণে অপরাধী ও মাদকসংশ্লিষ্ট একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ওসি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনলাইনে যেসব অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই না করেই প্রচার করা হয়ে থাকতে পারে। এতে একজন সরকারি কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে, আর অভিযোগ অসত্য হলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মানববন্ধনে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন। তারা বলেন, পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটি ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অভিযোগ প্রচার করে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করাও সমীচীন নয়। তাই অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করার দাবি জানান তারা।
‘মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে অপপ্রচার’
নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ ও মানববন্ধনের বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি মাদক ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছি। মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কারণে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে আমি মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা হোক। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আমি অবশ্যই সহযোগিতা করব। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়।”
ওসি জানান, কটিয়াদীতে মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি
মানববন্ধন থেকে বক্তারা ওসি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সচেতন মহলের মতে, পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যেমন গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তা প্রচার করাও অনাকাঙ্ক্ষিত। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে এলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান হবে বলে তারা মনে করছেন।
মানববন্ধনকে ঘিরে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কিছু সময়ের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়। বক্তারা অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।