জরুরি পারাপারে স্পিডবোটে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী
চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি : আহমদ রেজা
লক্ষ্মীপুর জেলার মধুচৌধুরী ঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর যাতায়াত। তবে নির্ধারিত সময়ে ঘাটে পৌঁছাতে বিলম্ব হলে সাধারণ ও বিপদগ্রস্ত যাত্রীদের নানা ধরনের ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘাটের অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং একটি কথিত স্টিলবোট সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো যাত্রী নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ বা নৌযান ধরতে না পারলে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত নদী পার হতে চাইলে তাকে বিকল্প নৌযান ব্যবহারে বাধার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে স্পিডবোটে পারাপারের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বাধার কারণে অনেক যাত্রী বিপাকে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঘাটে নৌযান পরিচালনা ও পারাপারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। তাদের নির্ধারিত ভাড়া ও নিয়মের বাইরে গিয়ে কেউ বিকল্প মাধ্যমে পারাপারের চেষ্টা করলে নানা ধরনের বাধা ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। ফলে সময়ের প্রয়োজনে দ্রুত পারাপার করতে চাওয়া যাত্রীরাও দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। যাত্রীদের দাবি, সময়ের চাপ কিংবা জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং জরুরি কাজে থাকা যাত্রীদের জন্য এমন পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত নদী পারাপারের প্রয়োজন থাকলেও বিকল্প নৌযান ব্যবহারে বাধা দেওয়া হলে যাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের প্রশ্ন—ঘাটে যাত্রীদের পারাপার নিয়ে এমন অনিয়ম ও হয়রানি চলতে থাকলে এর সুরাহা কোথায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় যাত্রী ও সচেতন মহল মধুচৌধুরী ঘাটে নৌযান চলাচল, ভাড়া নির্ধারণ ও যাত্রীসেবা ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের বিকল্প ও দ্রুত পারাপারের সুযোগ নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং ঘাটকেন্দ্রিক যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মধুচৌধুরী ঘাটের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নৌযান মালিকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে।