মোঃ রবিউল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার ঝিনাইদহঃ
শীতের স্নিগ্ধ সকাল,চারদিকে পিঠার ম ম ঘ্রাণ, ভাপা, চিতই, নকশি, আতা পিঠা,জামাই পিঠ, কদম আর পাটিসাপটার বাহারি সজ্জায় সেজেছে স্টলগুলো। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সরকারি লালন শাহ্ কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এমনই এক মনোমুগ্ধকর ‘পিঠা উৎসব’।
বাঙালির হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতেই কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। সোমবার সকালে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সরকারি লালন শাহ্ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা: রেজাউল ইসলাম।
উৎসবে শিক্ষার্থীরা মোট ৮টি স্টলে গ্রামবাংলার বিলুপ্তপ্রায় ও পরিচিত হরেক রকমের পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন।
স্টলগুলোতে চিতই, নকশি, ভাপা, কলা পিঠা, আতা পিঠা,জামাই পিঠ, কদম, হৃদয় হরন,
তেজপাতা পিঠাসহ কয়েক ডজন প্রজাতির পিঠার সমারোহ দেখা যায়। কেবল প্রদর্শনই নয়, আগত ভোজনরসিকরা পরম তৃপ্তিতে এসব পিঠার স্বাদ গ্রহণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতের নৈপুণ্যের প্রশংসা করেন।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক মহব্বত আলী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নজরুল ইসলাম এবং ইসলামের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো: আব্দুর রাকিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা: রেজাউল ইসলাম বলেন, “পিঠা বাঙালির আত্মিক সম্পর্কের অংশ। নারীদের শিল্প নৈপুণ্য ও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই আমাদের এই প্রয়াস। প্রতি বছরই আমরা এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
উৎসবে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কয়েকশ শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কলেজ প্রাঙ্গণকে মিলনমেলায় পরিণত করে। আধুনিকতার ভিড়ে গ্রামবাংলার এই চিরায়ত সংস্কৃতি ধরে রাখার এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীজন।