বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম
উখিয়া-টেকনাফ আসনে জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠায় ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করে বলেছেন, অতীতে উখিয়া-টেকনাফে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। আমরা ক্ষমতায় গেলে সীমান্ত জনপদের এই আসনে আর কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট থাকবে না। ন্যায়বিচার ও মানুষের উন্নয়নে জামায়াতে ইসলামী কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম টেকনাফ স্থলবন্দর চালু, শাহপরীরদ্বীপ করিডোর বাস্তবায়ন, টেকনাফ পৌরসভা আধুনিকায়ন, স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণ, নাফ নদী উন্নয়ন, টেকনাফ কলেজে অনার্স কোর্স চালু, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সরকারীকরণ, টেকনাফে মহিলা কলেজ স্থাপন, দমদমিয়া–সেন্টমার্টিন ঘাট চালু, খাস জমিতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সরকারীকরণ, টেকনাফে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপন এবং ট্যুরিজম পার্ক চালুর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা, মাদক ও অপহরণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এক বছরের মধ্যেই উখিয়া-টেকনাফের সার্বিক চিত্র বদলে যাবে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান। জন্ম থেকেই এই এলাকায় আছি। ২২ বছর ধরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নসহ আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছি। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও মানুষের অধিকার আদায় ও এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।”
তিনি আরও বলেন, “আমি জনপ্রতিনিধি নয়, জনগণের একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। আপনাদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হলে উখিয়া ও টেকনাফকে একটি আধুনিক, শিক্ষিত ও উন্নয়নসমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করবো। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও মূল্যবান ভোট কামনা করছি।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে উখিয়া-টেকনাফ সিন্ডিকেটমুক্ত হবে। এবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশাসকদের বিতাড়িত করার সুযোগ এসেছে। নতুন নেতৃত্বে এই আসনে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় টেকনাফের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। মিছিল ও জনসভা মিলিয়ে পুরো টেকনাফ শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি সরওয়ার কামাল সিকদার ও পৌর জামায়াত সভাপতি রবিউল আলমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ শাহজাহান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে (অনলাইনে) বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ছিবগাতুল্লাহ ছিবগা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিক, সামাজিক ও ছাত্রনেতারা।
জনসভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।