মোঃ আশরাফুল ইসলাম
গাইবান্ধা উপজেলা প্রতিনিধি
অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সকল ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণের পর আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। যার ফলে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ‘রাষ্টভাষা বাংলার দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এটি ছিল পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙ্গালীর প্রথম জয়।
উল্লেখ্য যে, ১৯৫২ সাল থেকে পরবর্তী সকল সরকারের আমলেই রাষ্ট্র ভাষা বাংলা শুধুমাত্র কাগজে সীমাবদ্ধ ছিল,বাস্তবে কার্যকর হয়নি। ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন-১৯৮৭ পাস করেন। তখন থেকে সরকারি অফিস-আদালতসহ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয় এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলা বাস্তব রূপ লাভ করে।
ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির অধিকার আদায় এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথম রুখে দাঁড়ানো। ভাষা আন্দোলনের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ থেকেই জাতির মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত হয়, যা পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
সমাজে যখনই অন্যায় অবিচার ও বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, তখনই একুশের চেতনা আমাদের প্রতিবাদে সোচ্চার হতে শক্তি যোগায়।
এই বিশেষ দিনে দেশবাসীর প্রতি আমাদের আহবান, আসুন মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়- বিচার ভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাই।