আব্দুস সালাম,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২ মে) বিকেলে নীলফামারী বড় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড় হয়ে ডিসি অফিস মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর ও নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার। সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শহর আমীর আনোয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমীর আবু হানিফা শাহ, খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুস সালাম এবং এনসিপির জেলা সদস্য সচিব ডা. কামরুল ইসলাম দর্পণসহ অন্য নেতারা।
খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুস সালাম বলেন, যেদিন গণআন্দোলন শুরু হবে, সেদিন সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে। অচিরে এই রায় বাস্তবায়ন না করলে জনগণ সরকারকে বিতাড়িত করবে। জনগণ রক্ত ও জীবন দিতে রাজি আছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে জনগণ মাঠে নেমে জীবন দিতেও বাধ্য হবে। সে সঙ্গে তিনি জুলাই যোদ্ধা মরহুম ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবি করেন।
এনসিপি জেলা সদস্য সচিব ডা. কামরুল ইসলাম দর্পণ বলেন, ৩০ শতাংশ ভোটের পক্ষে সরকার অবস্থান নিলে মনে করতে হবে, এই অংশটাই সরকারের। ৭০ শতাংশ জনমত গণভোটের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে, আর ৩০ শতাংশ এর বিপক্ষে। আর যদি ৩০ শতাংশ সঠিক হয়, তাহলে সরকার এই পরিমাণ ভোট পেয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। আর যদি সরকার জুলাই সনদ চায়, তাহলে জনগণের মতামতের গুরুত্ব দেবে।
জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে, একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কারের জন্য। বিএনপি সংবিধান সংস্কারের শপথ গ্রহণ করেনি। বর্তমানে তারা বিরোধী মতের ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আচরণ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, আর্থিক খাতে লুটপাট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের একজন ঋণ খেলাপিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে বসানো হয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। জনগণ যেমন ক্ষমতায় বসিয়েছে, তেমন নামাতেও পারে।
তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় জোট রাজপথে নেমেছে, কারণ পার্লামেন্টে উপযুক্ত সময় ও সুযোগ পায়নি। তাই ১১ দলীয় জোট মাঠে নেমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে। ১১ দলীয় জোট চায় ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানবাধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হোক, কিন্তু সরকারের সে বিষয়ে গুরুত্ব নেই। বাংলাদেশের জনগণ একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণ করেছেন। সরকার গণরায়কে গুরুত্ব না দিয়ে জনগণকেই জবাব দিতে হবে। জনগণ মাঠে থাকবে, জনগণকে নিয়েই আন্দোলন চলবে, যতদিন গণভোট বাস্তবায়ন না হয়।