খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর
( ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া -১ (নাসিরনগর ) সংসদীয়
২৪৩ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই জনদুর্ভোগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরে আলোচনায় এসেছেন সংসদ সদস্য জননেতা এম এ হান্নান এমপি।
দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট-দুর্ভোগকে প্রাধান্য দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তিনি ইতোমধ্যে প্রশংসায় ভাসছেন।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন নাসিরনগর – মাধবপুর সড়কের নির্মাণকাজের । ভাটি অঞ্চলের উন্নয়ন বিশেষ করে নদী ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এ যাবত চাতলপাড় মেঘনার ভাঙন রোধে চাতলপাড় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
নাসিরনগর – সরাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেন উন্নীত করা। প্রতিদিন শহরে যাতায়াতে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তির কথা। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা , যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ নানাবিধ কাজ করে যাচ্ছেন নিরলস ভাবে।
এই সমস্যাগুলো এতদিন অনেকটাই উপেক্ষিত থাকলেও সংসদে বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, “যে সমস্যায় আমরা প্রতিদিন ভুগছি, সেটাই সংসদে তুলেছেন আমাদের এমপি এটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া।”
এছাড়া নাসিরনগর উপজেলাবাসীর
দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল একটি মানসম্মত হাসপাতাল। এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না থাকায় অনেক রোগীকেই জেলা সদর, ঢাকা বা দূরবর্তী এলাকায় ছুটতে হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেকের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এই বাস্তবতা তুলে ধরে নাসিরনগর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানান এমপি হান্নান। তার এই উদ্যোগও স্থানীয়দের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
তবে এই অবস্থানে পৌঁছানো এম এ হান্নানের জন্য সহজ ছিল না। এমপি হওয়ার আগে তাকে নিজ দলীয় রাজনীতির ভেতরেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার আগেই তাকে ঘিরে তৈরি হয় নানা জটিলতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি দলীয় অভ্যন্তরীণ চাপে তার পথ ছিল কঠিন ও চ্যালেঞ্জে ভরা।
মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি থেমে থাকেননি। নাসিরনগর উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে বেড়িয়েছেন নিরলসভাবে। উঠান বৈঠক, কর্মীসভা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সব জায়গাতেই ছিল তার সক্রিয় উপস্থিতি। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।
নির্বাচনের মাঠেও ছিল নানা নাটকীয়তা।
জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট এ কে এম কামরুজ্জামান মামুন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকায় শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে ওঠে। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার মাঠে নামা নির্বাচনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তোলে। একই সঙ্গে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকবাল চৌধুরী প্রার্থিতা বৈধ হওয়ায় ভোট বিভক্তির শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক একেএম আমিনুল ইসলাম অংশগ্রহণ নির্বাচনী লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলে। বহুমাত্রিক এই প্রতিযোগিতার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত সব বাধা পেরিয়ে বিজয়ের হাসি হাসেন জননেতা এম এ হান্নান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা তাকে একটি নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বে পরিণত করেছে। বিএনপির একটি বড় ভোট ব্যাংকের আস্থাভাজন হিসেবেও তিনি পরিচিত।
এখন দেখার বিষয়, সংসদে উত্থাপিত এই দাবিগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয়। তবে শুরুতেই জনদুর্ভোগের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় এম এ হান্নান যে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পথে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন তা বলতেই হয়।