মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামে ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রমে ঘুষ দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আরপাঙ্গাশিয়া বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক কৃষক ও ভূমি মালিক অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৩৩ নম্বর তারিকাটা মৌজায় ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই জরিপ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে এক ব্যক্তির জমি অন্যের নামে রেকর্ড করে দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন ভূমি মালিকরা।
বর্তমানে এসব অভিযোগ ব্যাপক আকার ধারণ করায় এবং অনিয়ম বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে তারিকাটা গ্রামের শতাধিক কৃষক আরপাঙ্গাশিয়া বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয় কৃষক মো. জাকির হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সমাজসেবক মো. সরোয়ার হোসেন হাওলাদার, মো. জাফর হোসেন বিশ্বাস, মো. কামাল মৃধা, মো. হযরত আলী ও মো. রব শরীফ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আমতলী উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে ডিজিটাল ভূমি জরিপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ঘুষের বিনিময়ে একজনের জমি অন্যজনের নামে রেকর্ড করে দিচ্ছেন। এছাড়া একটি খতিয়ানকে অযৌক্তিকভাবে একাধিক খতিয়ানে বিভক্ত করে পরে তা সংশোধনের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, টাকা ছাড়া অফিসে কোনো কাজই হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. জাফর বিশ্বাস বলেন, “আমার আটটি খতিয়ান ভেঙে ৪২০টি খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে। পরে সংশোধনের জন্য অফিসে গেলে আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।”
কৃষক জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, “আমার পাঁচটি দাগের জমি অন্যের নামে রেকর্ড করা হয়েছিল। পরে অফিসের শফিকুর রহমান নামের একজনকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দিলে বিষয়টি ঠিক করে দেওয়া হয়।”
আরেক ভুক্তভোগী কৃষক কামাল মৃধা বলেন, “আমার পৈত্রিক সম্পত্তি ভুলভাবে প্রতিবেশী রেহেনা নামের এক নারীর নামে রেকর্ড করা হয়েছিল। পরে অর্থ ব্যয় করে তা সংশোধন করতে হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমতলী উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।”
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হবে।