মোঃ জাহেদ আলম (সাগর)উখিয়া- উপজেলা প্রতিনিধি।
বাংলাদেশ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে; এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব—রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা করা
এম এ আবুল আলা
পালংখালী, উখিয়া, কক্সবাজার
বাংলাদেশ কোনো স্থায়ী শরণার্থী রাষ্ট্র নয়। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল সাময়িকভাবে; কিন্তু সেই সাময়িক আশ্রয় আজ দীর্ঘস্থায়ী জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের ভূমি, সম্পদ, পরিবেশ, অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে নতুন করে আর কোনো জমি বা আবাসনের প্রশ্নই ওঠে না। সময়ের দাবি একটাই—রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের স্থানীয় জনগণ বছরের পর বছর জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ, বনভূমি ধ্বংস, পরিবেশগত বিপর্যয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের ভার বহন করে আসছে। স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সহায়তার বড় অংশ রোহিঙ্গা শিবিরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় হলেও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগণের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান বা দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের উদ্যোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হয়েছে।
বাংলাদেশ বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু এই দায়িত্ব অনির্দিষ্টকালের জন্য বহন করা কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়। রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি বাংলাদেশে নয়; এর মূল কারণ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। তাই সমাধানও বাংলাদেশে নতুন ক্যাম্প নির্মাণ নয়, বরং মিয়ানমারের ভেতরে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক শক্তি এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত নতুন জমির দাবি তোলার পরিবর্তে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাস্তবসম্মতভাবে এগিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে যেসব দেশ সক্ষম, তারা আন্তর্জাতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে পুনর্বাসন কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত করতে পারে।
স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন মহলে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, কিছু সংস্থার কার্যক্রম প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে দিচ্ছে না। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বাংলাদেশের জনগণ মানবিকতার পরীক্ষা দিয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার সময় এসেছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনগণের স্বার্থ সর্বাগ্রে বিবেচিত হওয়া উচিত। তাই স্পষ্ট বার্তা হওয়া প্রয়োজন—
আর কোনো নতুন আশ্রয় নয়। নতুন কোনো ক্যাম্প নয়। নতুন কোনো জমি নয়। স্থায়ী সমাধান একটাই—রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও সম্মানজনকভাবে তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন।