ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় উপজেলা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬-এর উদ্বোধন এবং সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা–২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান বুধবার (২৯ জুলাই) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শোলাকিয়াস্থ উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে উপজেলা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী খেলায় মুখোমুখি হয় লতিফাবাদ ইউনিয়ন ও যশোদল ইউনিয়ন ফুটবল দল।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও সভাপতির উপস্থিতিতে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “খেলাধুলা একটি সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম মাধ্যম। নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা যুবসমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে। খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করে। তাই আগামী প্রজন্মকে মেধাবী, সুস্থ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ক্রীড়াচর্চার বিকল্প নেই।”
পরে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা–২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও সফল ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “বৃক্ষ আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। সবুজায়নের এই আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে পারলেই আমরা একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”
অনুষ্ঠান শেষে বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।